বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানকে ১০০ শতাংশ শুল্ক থেকে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার হবে শূন্য। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল রয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি। নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ওষুধ আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রয়োগ আজ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, আরও প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হওয়ার মধ্যে এই ছাড়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
শুল্ক ছাড়ের আওতায় রয়েছে নির্দিষ্ট বিরল রোগের ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি–ড্রাগ কনজুগেটস। এ ছাড়া নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তের প্লাজমা থেকে তৈরি থেরাপি, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পণ্য ও প্রাণীর চিকিৎসার ওষুধও অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রেও শর্ত অনুযায়ী সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ২ এপ্রিলের ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ওষুধ ও উপাদানের ওপর মূল্যের অনুপাতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন তিনি। ঘোষণায় ওষুধের সরবরাহব্যবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়।
ছাড়ের তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভেদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম। সরকারি তালিকায় সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইনকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও একটি যৌথ এন্ট্রি হওয়ায় তালিকাটিকে শুধু ‘১৯টি দেশ’ বলা যথাযথ নয়।
মার্কিন নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোগত চুক্তির ভিত্তিতে যোগ্য পণ্য এই সুবিধা পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন মেটায়—এমন বিশেষায়িত ওষুধের জন্যও পৃথক অনুমোদনের মাধ্যমে শূন্য শুল্কের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে সব ওষুধের জন্য এ ছাড় প্রযোজ্য নয়। একইভাবে তালিকার বাইরের সব দেশের সব ওষুধে নির্বিচারে ১০০ শতাংশ শুল্কও বসছে না। নির্দিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিন্ন হার বা ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আপাতত এই বিশেষ ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে।
