যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

tarique rahman zakat management bangladesh

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত প্রদান করা হলে শুধুমাত্র যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বণ্টন করা হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে প্রায় চার কোটি পরিবারের বসবাস রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত প্রদান করা হলে তাদের অধিকাংশ পরিবার পরবর্তী বছরগুলোতে আর যাকাত গ্রহণের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে যাকাত বণ্টন করা গেলে এই অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।”

এ সময় দেশের আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারণা যদি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়, তাহলে বিত্তবানদের সচেতন করতে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যাকাতকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।”

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে তিনি বলেন, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার অভাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে বিত্তবানদের যাকাত আদায় হলেও তা দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রমজান মাসকে ত্যাগ, সংযম ও রহমতের মাস হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন।

তিনি বলেন, “পবিত্র এই মাসকে কেউ কেউ লোভ ও অতিরিক্ত মুনাফার মাসে পরিণত করেন। পবিত্র মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান—অনুগ্রহ করে মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।”

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে দেশের বর্তমান বাস্তবতার কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে—একটি গতকাল এবং আরেকটি আজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল।”