পর্তুগালে প্রায় ৪ হাজার অভিবাসীর বসবাসের বৈধতা (রেসিডেন্সি) অবৈধভাবে নিশ্চিত করার অভিযোগে এক পর্তুগিজ আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই মামলায় অভিযুক্ত এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জামিন, নিয়মিত পুলিশে হাজিরা এবং পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্তুগালের বিচারিক পুলিশ Polícia Judiciária (PJ) জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুজন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন সহায়তা, জালিয়াতি, অর্থপাচার, কম্পিউটার জালিয়াতি এবং নিষিদ্ধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে।
গত সপ্তাহে পরিচালিত “Operation Terra Milagrosa” অভিযানে রাজধানী এলাকার ওয়েরাস ও ওদিভেলাস থেকে ৫৩ বছর বয়সী ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং ৫৬ বছর বয়সী পর্তুগিজ আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তে সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সহায়তায় একটি জটিল প্রতারণা চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়।
৪ হাজার অভিবাসীর নামে ভুয়া নথি
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্র বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে পর্তুগালে বৈধ কাগজপত্র করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত।
তাদের মাধ্যমে অভিবাসীদের জন্য ভুয়া চাকরির চুক্তিপত্র, ট্যাক্স নম্বর (NIF), সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (NISS), বাসস্থানের সনদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা অবদানের রেকর্ড তৈরি করা হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের সামাজিক নিরাপত্তা অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া আয় ঘোষণাপত্র জমা দিত।
এর মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার বিদেশি নাগরিকের নামে কৃত্রিম সামাজিক নিরাপত্তা অবদানের রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে পর্তুগালের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ কোটি ইউরো (১০ মিলিয়ন ইউরো) ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, যেসব অভিবাসী এই চক্রের মাধ্যমে বৈধতা পেয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকেই বাস্তবে পর্তুগালে বসবাস করেন না। বরং তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশে অবস্থান করছেন।
ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বৈধতার বিষয়টি যাচাই করা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
পর্তুগালে বসবাসরত এবং বৈধ কাগজপত্রের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসীদের জন্য এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ উপায়ে রেসিডেন্সি বা সামাজিক নিরাপত্তা রেকর্ড তৈরি করলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব, রেসিডেন্সি নবায়ন কিংবা শেঙ্গেন অঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সূত্র: লুসা
