মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত নূরমী এখন নূরনবী

tangail-mirzapur-nurmi-to-nurnobi

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মাদরাসাছাত্রীর ছেলে হিসেবে পরিচয় পরিবর্তনের ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারও তাকে ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল আরও বেড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখন তাকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন বাড়িতে।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের সৌদি প্রবাসী বাদশা খলিফার ১৪ বছর বয়সী বড় সন্তান নূরমী আক্তার স্থানীয় গুনটিয়া মহিলা মাদরাসার মাওলানা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাস থেকেই নূরমী নিজের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করে। প্রথমদিকে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলেও তারা তেমন গুরুত্ব দেননি। পরে গত বুধবার নানির নজরে বিষয়টি এলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করেন এবং শারীরিক পরিবর্তনের সত্যতা নিশ্চিত হন।

এরপর পরিবার নূরমীকে ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নতুন নাম রাখে নূরনবী। পরিবারের পক্ষ থেকে তার চুল কেটে ছেলেদের মতো সাজানো হয় এবং নতুন পোশাকও কিনে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নানা বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা শুনলেও বাস্তবে এমন ঘটনা প্রথমবার দেখছেন তারা।

নূরনবীর চাচা সোলাইমান খলিফা বলেন, “আমাদের পরিবারে পরপর তিনটি মেয়েসন্তান জন্ম হয়েছিল। তাই নূরমীর এই পরিবর্তনকে আমরা আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করেছি।”

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, জন্মগত হরমোন বা ক্রোমোজমজনিত পরিবর্তনের কারণেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

বর্তমানে নূরমী থেকে নূরনবী হয়ে ওঠার এই ঘটনা টাঙ্গাইলজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।