নেইমারকে করমর্দন না করে ফেরালেন থিয়াগো মেন্দেস, পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও আলোচনায়

neymar-thiago-mendes-handshake-santos-vasco

নেইমার ও থিয়াগো মেন্দেসের দ্বন্দ্বের বয়স ছয় বছর। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের দুই তারকার সেই পুরোনো বিরোধ যেন আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে ভাস্কো দা গামা ও সান্তোসের ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দনের সময় নেইমারের বাড়িয়ে দেওয়া হাত ফিরিয়ে দেন ভাস্কোর মিডফিল্ডার মেন্দেস।

সাও জানুয়ারিও স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়েরা আনুষ্ঠানিক করমর্দনে অংশ নেন। একপর্যায়ে নেইমার হাত বাড়িয়ে দিলেও মেন্দেস সেটি গ্রহণ না করে চলে যান। দুই দলের অধিনায়ককে ঘিরে এই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মাঠের বাইরের এই উত্তেজনার প্রভাব গ্যালারিতেও দেখা যায়। ভাস্কো সমর্থকদের একাংশ নেইমারের কান্নার মুখাবয়বের মাস্ক পরে তাঁকে উদ্দেশ করে বিদ্রূপ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে ম্যাচের মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে নেইমারের সান্তোসই। সাও জানুয়ারিওতে ভাস্কোকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে সান্তোস।

যেভাবে শুরু হয়েছিল দ্বন্দ্ব

নেইমার ও মেন্দেসের বিরোধের সূত্রপাত ২০২০ সালে ফরাসি লিগ ওয়ানে পিএসজি ও অলিম্পিক লিওঁর ম্যাচে। তখন মেন্দেস খেলতেন লিওঁর হয়ে। ম্যাচের শেষ দিকে নেইমারকে থামাতে গিয়ে মেন্দেসের করা শক্ত ট্যাকেলে চোট পান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। নেইমারকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিতে হয়েছিল। পরে মেন্দেস লাল কার্ড দেখেন এবং প্রকাশ্যে নেইমারের কাছে ক্ষমাও চান।

ঘটনার পর নেইমারের পরিবারও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। এরপর থেকেই দুই খেলোয়াড়ের সম্পর্ক আর স্বাভাবিক হয়নি।

ব্রাজিলে ফিরেও কমেনি উত্তেজনা

২০২৬ সালে দুজনই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফেরার পর পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার সামনে আসে। ফেব্রুয়ারিতে সান্তোস ও ভাস্কোর ম্যাচে মাঠেই দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল।

সেই ম্যাচের পর নেইমার মেন্দেসের বিরুদ্ধে তাঁকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেন। মেন্দেসকে উদ্দেশ করে তিনি কড়া ভাষাও ব্যবহার করেন।

এরপর রোববারের ম্যাচের আগে করমর্দন না করার ঘটনা সেই পুরোনো বিরোধকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

নেইমারের বন্ধুর কটাক্ষ

মেন্দেসের করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোতা আমানসিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো ও সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে ঘিরে প্রচলিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মেন্দেসকে কটাক্ষ করেন।

আমানসিওর বক্তব্যের সারকথা ছিল—বিশ্বমানের তারকারা সাধারণত নিজেদের নিয়ে অহংকার না করে স্বাভাবিক থাকেন; বরং তুলনামূলক কম পরিচিত খেলোয়াড়দের মধ্যেই অহংকার বেশি দেখা যেতে পারে।

তবে ম্যাচের ফলই শেষ পর্যন্ত আলোচনার বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। মেন্দেসের ভাস্কোকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সান্তোস মাঠ ছাড়ে, আর নেইমারও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ছয় বছর আগের একটি ট্যাকেল থেকে যে বিরোধের শুরু, ব্রাজিলের মাটিতে দুই দলের প্রতিটি মুখোমুখি লড়াই যেন সেই গল্পের নতুন অধ্যায় হয়ে উঠছে।