পর্তুগালে বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, পর্যটন ও আতিথেয়তা, উৎপাদন শিল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে দেশটির নিয়োগকর্তারা। ফলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা বাংলাদেশিদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে পর্তুগালের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইট, ইউরোপীয় চাকরির প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক নিয়োগ পোর্টালের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে আগ্রহীরা বাংলাদেশ থেকেই অনলাইনে আবেদন করে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফটওয়্যার ডেভেলপার, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, নার্স, কেয়ারগিভার, ওয়েল্ডার, সিভিল কনস্ট্রাকশন কর্মী, শেফ, হোটেল স্টাফ এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল পেশায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এসব খাতে প্রতিযোগিতামূলক বেতন, স্বাস্থ্যবীমা, বার্ষিক ছুটি এবং অন্যান্য কর্মসংস্থান সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হলে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করে থাকে।
তবে চাকরিপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র স্বীকৃত নিয়োগকর্তা বা সরকারি অনুমোদিত চাকরির প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করা উচিত। চাকরির নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি পর্তুগিজ ভাষায় মৌলিক দক্ষতা থাকলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ইউরোপীয় মান অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত (CV), কভার লেটার এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত সনদ প্রস্তুত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
পর্তুগালে দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের চাহিদা অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
