টানা ছয় কার্যদিবস পতনে শেয়ারবাজার, কমেছে লেনদেনও

bangladesh-stock-market-dse

নিজস্ব প্রতিবেদক: পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। একের পর এক কার্যদিবসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় হতাশ হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বুধবারও দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা ছয় কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকল বাজার।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৮টির। আর ৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। টানা ছয় কার্যদিবসের পতনে সূচকটি মোট ১৩৩ পয়েন্ট হারিয়েছে।

শুধু মূল্যসূচক নয়, বুধবার শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ২৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

এটি চলতি বছরের ১৯ মে’র পর ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন। ওই দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৬৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার লেনদেনের শুরুতেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমতে থাকে। এর প্রভাবে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

তবে লেনদেনের একপর্যায়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকও কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু দিনের শেষদিকে আবারও বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে শেষ পর্যন্ত সূচকের পতনেই লেনদেন শেষ হয়।

বিনিয়োগকারীদের হতাশার মধ্যে তুলনামূলক ভালো কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা গেছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বুধবার ৮০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

টানা দরপতন ও লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ থাকায় বাজারে আস্থার সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।