বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাত মাসের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর সেগুলো দাঁড়াচ্ছে যথাক্রমে ১৩৫, ১৫৫, ১৬০ ও ১৬৫ টাকা।
সে হিসাবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার দামের সঙ্গে বর্তমান দাম তুলনা করলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা, কেরোসিনের ৪৩ টাকা, পেট্রোলের ৪৪ টাকা এবং অকটেনের ৪৫ টাকা। শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অকটেন—৩৭.৫ শতাংশ। তবে এই পুরো বৃদ্ধিকে একটি সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে দেখা যাবে না; এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরে পৃথক মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে দাম। এর আগে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির বিস্তারিত নিয়ে PortuBangla-তে প্রকাশিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সর্বশেষ খবর প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।
ক্ষমতা গ্রহণের সময় কত ছিল দাম
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং একই দিনে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়।
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমিয়েছিল তৎকালীন সরকার। ফলে ফেব্রুয়ারিতে ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। মার্চেও এই দাম বহাল ছিল এবং নতুন সরকার এপ্রিলের শুরুতেও একই দাম অপরিবর্তিত রাখে।
অর্থাৎ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন বাজারে কার্যকর দাম ছিল—
| জ্বালানি | ১৭ ফেব্রুয়ারির সময়কার দাম | ২১ সেপ্টেম্বর থেকে | মোট বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ১০০ টাকা | ১৩৫ টাকা | ৩৫ টাকা |
| কেরোসিন | ১১২ টাকা | ১৫৫ টাকা | ৪৩ টাকা |
| পেট্রোল | ১১৬ টাকা | ১৬০ টাকা | ৪৪ টাকা |
| অকটেন | ১২০ টাকা | ১৬৫ টাকা | ৪৫ টাকা |
প্রথম বড় বৃদ্ধি এপ্রিলে
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ১৮ এপ্রিল চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে বাড়ানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হয় ১৯ এপ্রিল থেকে।
ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে হয় ১৩০ টাকা। পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মূল্য সমন্বয়ের কথা জানায়। রয়টার্সও সে সময় জানায়, ইরান যুদ্ধ ও সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল।
জুনে আবার বাড়ে তিন ধরনের তেলের দাম
এপ্রিলের বৃদ্ধির পর মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে ১ জুন থেকে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম আবার লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। ডিজেলের দাম তখন ১১৫ টাকাতেই রাখা হয়।
এর ফলে জুন থেকে অকটেনের দাম হয় ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা। ডিজেল থাকে ১১৫ টাকা।
জুলাইয়েও এই দাম অপরিবর্তিত ছিল। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ডিজেল ১১৫, অকটেন ১৪৫, পেট্রোল ১৪০ এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা লিটার দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল।
সেপ্টেম্বরে এক লাফে ২০ টাকা
২০ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
এই বৃদ্ধির পর ডিজেল ১১৫ থেকে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।
The Business Standard-এর হিসাবে, সেপ্টেম্বরের এই সমন্বয়ে ডিজেলের দাম এক ধাপে ১৭.৪ শতাংশ, অকটেন ১৩.৮ শতাংশ, পেট্রোল ১৪.৩ শতাংশ এবং কেরোসিন ১৪.৮ শতাংশ বেড়েছে।
সাত মাসে কোথায় গিয়ে দাঁড়াল
১৭ ফেব্রুয়ারির কার্যকর দামের সঙ্গে ২১ সেপ্টেম্বরের দাম তুলনা করলে ডিজেলের দাম ১০০ থেকে ১৩৫ টাকা—বৃদ্ধি ৩৫ শতাংশ।
কেরোসিন ১১২ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। বৃদ্ধি ৪৩ টাকা বা প্রায় ৩৮.৪ শতাংশ।
পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। বৃদ্ধি ৪৪ টাকা বা প্রায় ৩৭.৯ শতাংশ।
আর অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। অর্থাৎ লিটারে ৪৫ টাকা বা ৩৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে সময়কালটির মূল্যবৃদ্ধির হিসাব করার ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিন নতুন করে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করেনি। ১৭ ফেব্রুয়ারিতে যে দাম কার্যকর ছিল, সেটি আগের সরকারের ১ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়েছিল। নতুন সরকারের আমলে প্রথম মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয় ১৯ এপ্রিল।
