বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর হেড টু হেড: মুখোমুখি লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

bangladesh-vs-singapore-head-to-head

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক স্মৃতি সুখকর নয়। সর্বশেষ তিন দেখায় তিনবারই হার। দুবার ২–১, অন্যবার ১–০। আজ ফিফা আসিয়ান কাপে আবার সেই প্রতিপক্ষের সামনে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়।

বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর হেড টু হেড পরিসংখ্যানে সাম্প্রতিক ব্যবধানটা স্পষ্ট। ২০১৫ সাল থেকে দুই দলের তিন ম্যাচে সিঙ্গাপুর করেছে পাঁচ গোল, বাংলাদেশ দুই। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে তাই এই হারের ধারা থামানোর সুযোগ।

সর্বশেষ সাক্ষাৎটি খুব বেশি আগের নয়। গত ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের মাঠে ১–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। কালাংয়ের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন হারহিস স্টুয়ার্ট। ৩১ মিনিটে তাঁর করা গোলটি আর শোধ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওই জয়ে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচটিও জিতে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর।

এর আগে গত বছরের ১০ জুন ঢাকায়ও জিতেছিল সিঙ্গাপুর। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচে বাংলাদেশের হার ২–১ গোলে। একই ব্যবধানে হার ছিল ২০১৫ সালের ৩০ মে প্রীতি ম্যাচেও। অর্থাৎ ঘরের মাঠ কিংবা প্রতিপক্ষের মাঠ—সর্বশেষ তিন লড়াইয়ের কোনোটিতেই জয় বা ড্র পায়নি বাংলাদেশ।

তারিখপ্রতিযোগিতাফলাফল
৩১ মার্চ ২০২৬এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বসিঙ্গাপুর ১–০ বাংলাদেশ
১০ জুন ২০২৫এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ববাংলাদেশ ১–২ সিঙ্গাপুর
৩০ মে ২০১৫প্রীতি ম্যাচবাংলাদেশ ১–২ সিঙ্গাপুর

তবে দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাস শুধু এই তিন ম্যাচে সীমাবদ্ধ নয়। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের স্মৃতিও আছে। বাফুফের রেকর্ডের বরাতে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের ১৩ আগস্ট নওশেরুজ্জামানের গোলে সিঙ্গাপুর জাতীয় দলকে ১–০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মারদেকা টুর্নামেন্ট শেষে দেশে ফেরার পথে সিঙ্গাপুরে ম্যাচটি খেলেছিল দল। তবে ম্যাচটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত নয়।

পুরোনো ম্যাচের হিসাব নিয়েও সূত্রভেদে পার্থক্য আছে। ১৯৭৩ সালের মারদেকা টুর্নামেন্ট ও ১৯৮৬ সালের কাঠমান্ডু টুর্নামেন্টে দুই দলের ১–১ ড্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু সব পরিসংখ্যানের ওয়েবসাইটে দুটি ম্যাচই অন্তর্ভুক্ত নেই। এ কারণে কোনো একটি ওয়েবসাইটের হিসাব ধরে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিঙ্গাপুরের পুরো ইতিহাস তুলে ধরলে কিছু ম্যাচ বাদ পড়ে যায়।

আজকের লড়াই অবশ্য নতুন প্রতিযোগিতায়। ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন ১-এ বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের গ্রুপসঙ্গী মালয়েশিয়া এবং স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

এই প্রতিযোগিতায় নামার আগে প্রতিপক্ষকে ভয় না পাওয়ার কথাই বলেছিলেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ‘আমরা কাউকে ভয় পেতে এখানে আসিনি’—তাঁর সেই কথার পর আজ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ।