পর্তুগালে ধর্মঘটে স্কুল বন্ধ, ইজিজেটের ৪৪৩ ফ্লাইট বাতিল

portugal strike schools easyjet flights

পর্তুগালে সরকারি কর্মীদের ধর্মঘটে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বহু স্কুল বন্ধ ছিল। বিভিন্ন সরকারি ও পৌরসেবাতেও বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দেয়। একই দিনে পৃথক কর্মসূচিতে পাঁচ দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন ইজিজেটের কেবিন ক্রুরা। তাঁদের ইউনিয়নের হিসাবে, ধর্মঘটের সময়সূচির মধ্যে থাকা লিসবন, পোর্তো ও ফারোর ৪৪৩টি ফ্লাইট ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে।

সরকারি খাতের ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট ডাকে শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপি-সংশ্লিষ্ট তিনটি ইউনিয়ন—এফএনএসটিএফপিএস, এসটিএএল ও এসটিএমএল। কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী। তাঁদের মধ্যে আছেন অপারেশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও উচ্চতর কারিগরি পদে কর্মরত ব্যক্তিরা। এই সংখ্যা ধর্মঘটের আওতাভুক্ত কর্মীদের; সবাই কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন, এমন নিশ্চিত হিসাব নয়।

ধর্মঘটের বড় প্রভাব পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কর্মীসংকটে লিসবনের ফ্রান্সিসকো আরুদা স্কুলসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় খুলতে পারেনি। সরকারি কর্মীদের জোট ফ্রেন্তে কোমুমের সমন্বয়ক সেবাস্তিয়াঁও সান্তানা টিভিআইকে জানান, দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণের পাশাপাশি আজোরেস ও মাদেইরাতেও স্কুল বন্ধ রয়েছে। কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তা সেবা, নিবন্ধন ও নোটারি কার্যালয়, বিচার বিভাগ এবং বর্জ্য সংগ্রহেও বিঘ্নের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। কিছু স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানেও প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মীদের পেশাগত কাঠামোর দ্রুত উন্নয়নের দাবিতে লিসবনের প্রাসা দা ফিগেইরা থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় অভিমুখে মিছিলের জন্য বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন।

এদিকে ইজিজেটের কেবিন ক্রুদের ধর্মঘট চলার কথা মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। বেসামরিক বিমান পরিবহনের কর্মীদের ইউনিয়ন এসএনপিভিএসি জানিয়েছে, পাঁচ দিনের কর্মবিরতিতে লিসবন, পোর্তো ও ফারো ঘাঁটির ফ্লাইটগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। বাতিল হওয়া ৪৪৩টি ফ্লাইট পুরো ধর্মঘটকালীন সময়ের হিসাব; শুধু শুক্রবারের নয়।

ইউনিয়ন ধর্মঘটকালে ৮০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের পূর্বাভাস দিলেও ইজিজেট জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সূচির প্রায় ৫৫ শতাংশ পরিচালনার আশা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা, বাধ্যতামূলক ন্যূনতম সেবার পাশাপাশি ইউরোপের অন্য ঘাঁটি থেকে পর্তুগালে আসা-যাওয়ার ফ্লাইটও চালু থাকবে।

অন্য ঘাঁটির কর্মীদের দিয়ে ধর্মঘটকারীদের কাজ করানোর বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইউনিয়ন। তবে ইজিজেটের দাবি, তাদের কার্যক্রম প্রযোজ্য আইন ও বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

কেবিন ক্রুদের দাবির মধ্যে রয়েছে কাজের সময়সূচিতে স্থিতিশীলতা, চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির সুযোগ এবং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির শর্তের উন্নয়ন। একই বিরোধে ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর আরেক দফা ধর্মঘটের কর্মসূচিও রয়েছে।