বাংলাদেশে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা তালিকা ২০২৬: কোন অপরাধে কত টাকা?

motorcycle traffic fine bangladesh

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল চালানোর সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, হেলমেট, ট্রাফিক সিগন্যাল, গতিসীমা কিংবা যাত্রী বহনের নিয়ম না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা তালিকা ২০২৬ খুঁজতে গিয়ে একটি বিষয় শুরুতেই জানা জরুরি—আইনে কোনো অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা দেওয়া আছে, ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিলেই সব ক্ষেত্রে সেই পুরো টাকা দিতে হয় না।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এ বিভিন্ন অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড, জরিমানা এবং কিছু ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ডিমেরিট পয়েন্টের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে নির্ধারিত এলাকায় কিছু অপরাধে অনুমোদিত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই প্রসিকিউশন বা জরিমানা করতে পারেন। সেই জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট মামলা, ধারা, নির্ধারিত প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।

জরিমানার অঙ্ক সম্পর্কে সতর্কতা:
সড়ক পরিবহন আইনে অনেক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বা শাস্তির সীমা উল্লেখ থাকে। তবে ঘটনাস্থলে হওয়া traffic prosecution, প্রযোজ্য compoundable/spot prosecution, আদালতের আদেশ এবং মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকৃত প্রদেয় অর্থ ভিন্ন হতে পারে। তাই prosecution slip বা notice-এ উল্লেখিত ধারা ও সরকারি নির্দেশনা যাচাই করতে হবে।

বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা তালিকা ২০২৬

নিচের টেবিলের অঙ্কগুলো মূলত আইনে থাকা সর্বোচ্চ জরিমানা। এগুলোকে “পুলিশ ধরলেই এত টাকা দিতে হবে” হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

অপরাধসম্ভাব্য আইন/ধারাআইনে জরিমানা/সর্বোচ্চ জরিমানাঅতিরিক্ত শাস্তিগুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালানোধারা ৪ ও ৬৬সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা উভয়বৈধ licence/learner licence ছাড়া চালানো নিষিদ্ধ।
মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চালানোধারা ৪ ও ৬৬সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৬ মাস বা উভয়মেয়াদ শেষ হওয়া লাইসেন্সও বৈধ লাইসেন্স হিসেবে গণ্য নয়।
রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেলধারা ১৬ ও ৭২সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৬ মাস বা উভয়রেজিস্ট্রেশন ছাড়া রাস্তায় চালানো গুরুতর অপরাধ।
প্রয়োজনীয় কাগজের মেয়াদ শেষধারা ভেদেএকক অঙ্ক নেইধারা অনুযায়ীTax token-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০,০০০; fitness প্রযোজ্য হলে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা হতে পারে।
চালকের হেলমেট নেইধারা ৪৯ ও ৯২সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টমোটরসাইকেল চালকের helmet বাধ্যতামূলক।
পেছনের আরোহীর হেলমেট নেইধারা ৪৯ ও ৯২সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টযাত্রীরও যথাযথ helmet থাকতে হবে।
চালকসহ তিনজন বা বেশিধারা ৪৯ ও ৯২সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টচালক ছাড়া সর্বোচ্চ একজন যাত্রী বহনের বিধান রয়েছে।
ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যধারা ৪২ ও ৮৫সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ১ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টRed light ও আইনসিদ্ধ traffic signal অমান্য এর আওতায় পড়তে পারে।
উল্টো পথে বাইক চালানোধারা ৪৯ ও ৯২সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টআইন বিপরীত দিক দিয়ে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করেছে।
অতিরিক্ত গতিতে চালানোধারা ৪৪ ও ৮৭সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টরাস্তা ও যানবাহনভেদে speed limit ভিন্ন হতে পারে।
বেপরোয়া/বিপজ্জনকভাবে চালানোধারা ৪৪ ও ৮৭সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টদুর্ঘটনা ঘটলে আরও গুরুতর ধারা প্রযোজ্য হতে পারে।
রাস্তায় রেসিংপরিস্থিতিভেদে ধারা ৪৪/৮৭আলাদা fixed “racing fine” যাচাই করা যায়নিSpeeding/reckless driving ধারা প্রযোজ্য হতে পারেকেবল “রেসিং” নামে নির্দিষ্ট অঙ্ক বানিয়ে বলা ঠিক নয়।
চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহারধারা ৪৯-এর দ্বিতীয় অংশ ও ৯২(২)সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ১ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টগাড়ি চালানোর সময় mobile phone বা অনুরূপ যন্ত্র ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নিয়মবহির্ভূত পার্কিংধারা ৪৭ ও ৯০সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা১ ডিমেরিট পয়েন্টএমনভাবে parking করা যাবে না যাতে আইন বা traffic management ভাঙে।
ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানোধারা ৪৯ ও ৯২সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টFootpath দিয়ে মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ।
নাম্বার প্লেট ছাড়া চালানোধারা ১৬ ও ৭২সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৬ মাস বা উভয়নিবন্ধন নম্বর যথাযথভাবে প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।
ভুয়া/পরিবর্তিত registration বা number plateধারা ১৭ ও ৭৩১ লাখ–৫ লাখ টাকা৬ মাস–২ বছর বা উভয়সাধারণভাবে plate না থাকার চেয়ে forged/altered registration অনেক গুরুতর।
অনুমোদনহীন structural modificationধারা ৪০ ও ৮৪সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা১–৩ বছর কারাদণ্ড বা উভয়সব modification বেআইনি নয়; অনুমোদিত technical specification-এর বাইরে পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত শব্দের modified exhaust/hornধারা ৪৫ ও ৮৮সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টঅতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে এমন horn/parts নিষিদ্ধ হতে পারে।
পুলিশের বৈধ stop signal/নির্দেশ অমান্যধারা ৪২ ও ৮৫; পরিস্থিতিভেদে অন্য ধারাসর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ১ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টইউনিফর্মধারী পুলিশ আইন অনুযায়ী গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিতে পারেন।
দুর্ঘটনার পর আইনি দায়িত্ব পালন না করাধারা ৬২ ও ৯৫সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ১ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টদুর্ঘটনা জানান ও আহতকে চিকিৎসায় পাঠানোর দায়িত্ব রয়েছে।
Fitness/route permit ছাড়া, যেখানে প্রযোজ্যধারা ২৫/২৮ ও ৭৫/৭৭Fitness: সর্বোচ্চ ২৫,০০০; permit: সর্বোচ্চ ২০,০০০কারাদণ্ডও হতে পারেসাধারণ ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে route permit-কে নিয়মিত কাগজ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থপরিস্থিতিভেদেএকক fixed fine পাওয়া যায়নিমূল কাগজ বৈধ না হলে সংশ্লিষ্ট ধারাশুধু একটি document সঙ্গে না থাকার সঙ্গে document-টি আদৌ বৈধ না থাকা এক বিষয় নয়।
অন্যের/ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারা ৬/১০ ও ৬৭/৬৯অন্যের লাইসেন্সে সর্বোচ্চ ৫,০০০; forged licence-এ ১–৫ লাখভুয়া লাইসেন্সে ৬ মাস–২ বছরও হতে পারেঅন্যের বৈধ licence এবং forged licence—দুই অপরাধের শাস্তি এক নয়।
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাইক চালানোধারা ৪৯ ও ৯২সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকাসর্বোচ্চ ৩ মাস বা উভয়; ১ পয়েন্টমাদক বা নেশাজাতীয় অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ।

আইনের সর্বোচ্চ জরিমানা আর ট্রাফিক পুলিশ যে টাকা নেয়—দুটো কি এক?

না। এটি এই পুরো তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১১৩ ধারায় সরকার-নির্ধারিত এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধে সার্জেন্ট/সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে জরিমানা আরোপ করতে পারেন। কর্মকর্তা অপরাধ ও জরিমানার তথ্য নির্ধারিত ফরমে লিখবেন এবং অর্থ পরিশোধ করলে রসিদ দেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ আইনে লেখা সর্বোচ্চ ১০,০০০ বা ২৫,০০০ টাকা মানেই প্রতিটি prosecution slip-এ ওই পরিমাণ লেখা থাকবে—এমন নয়।

তাই কোনো মামলার প্রকৃত অর্থ জানতে prosecution slip বা e-prosecution notice-এর ধারা, case/prosecution number এবং payment instruction দেখতে হবে।

হেলমেট না পরলে বাইকের মামলা কত টাকা?

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালকের পাশাপাশি চালকের পেছনে থাকা যাত্রীকেও যথাযথভাবে helmet ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে চালক ছাড়া মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ একজন যাত্রী বহনের বিধান রয়েছে।

এই বিধান ভঙ্গ ধারা ৯২-এর আওতায় পড়লে আইনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড, সঙ্গে এক ডিমেরিট পয়েন্টের বিধান রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে হেলমেট ছাড়া ধরা পড়লেই প্রত্যেক চালককে ঠিক ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। সেটি আইনের সর্বোচ্চ সীমা। ঘটনাস্থলের prosecution বা আদালতে প্রকৃত অর্থ ভিন্ন হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা কত?

আইনের ৪ ধারায় বৈধ driving licence ছাড়া মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ। একই ধারায় মেয়াদোত্তীর্ণ licence নিয়ে চালানো এবং নিজের licence-এ অনুমোদিত নয় এমন শ্রেণির যানবাহন চালানোর বিষয়ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এর শাস্তি ৬৬ ধারায় সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়।

এখানে চারটি পরিস্থিতি আলাদা করে বোঝা দরকার:

  • কোনো licence-ই নেই: ধারা ৪/৬৬ সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
  • লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ: এটিও বৈধ licence ছাড়া চালানোর মধ্যে পড়ে।
  • Learner licence: আইন learner driving licence-কে স্বীকৃতি দেয়, তবে prescribed learner conditions মেনেই চালাতে হবে।
  • ভিন্ন category-এর licence: আপনার licence যে শ্রেণির গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয় না, সেই শ্রেণির মোটরযান চালানো বৈধ নয়।

অন্যের licence ব্যবহার করা বা forged licence ব্যবহার করা আরও আলাদা অপরাধ। বিশেষ করে ভুয়া/জাল licence ব্যবহারের শাস্তি অনেক বেশি হতে পারে।

বাইকের রেজিস্ট্রেশন বা কাগজপত্র না থাকলে জরিমানা

Registration certificate

রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে ধারা ৭২ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় হতে পারে।

Number plate

আইনে নিবন্ধন নম্বর নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোটরযানে প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। তাই registered bike হলেও number plate খুলে, ঢেকে বা নিয়মবহির্ভূতভাবে চালানো নিরাপদ নয়। Fake বা altered registration/number-এর জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

Tax token

প্রযোজ্য tax token ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ tax token-এ মোটরযান ব্যবহার করলে আইনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

Fitness certificate

সড়ক পরিবহন আইন মোটরযানের fitness certificate নিয়ে বিধান রেখেছে এবং BRTA-ও registration-এর সময় fitness certificate ও tax token দেওয়ার কথা উল্লেখ করে। BRTA-র অনলাইন ব্যবস্থায় e-fitness যাচাইয়ের সুবিধাও আছে। নিজের motorcycle record-এ fitness expiry/requirement কী আছে, সেটি BSP/BRTA record দিয়ে যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ।

Fitness প্রয়োজন থাকা অবস্থায় বৈধ certificate না থাকলে ধারা ৭৫ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫,০০1\০ টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা উভয় হতে পারে।

Insurance

Insurance-এর ক্ষেত্রে “কাগজ সঙ্গে না থাকলেই মোটরসাইকেলের নির্দিষ্ট X টাকা traffic fine”—এমন একটি universal fine এই যাচাইয়ে পাওয়া যায়নি। তাই পুরোনো সংবাদ বা অনলাইন তালিকা দেখে নির্দিষ্ট অঙ্ক লেখা ঠিক হবে না।

ডিজিটাল কপি কি গ্রহণযোগ্য?

BRTA Service Portal বর্তমানে QR code-সম্বলিত e-tax token, e-driving licence ও e-fitness যাচাইয়ের সুবিধা দেয়। অর্থাৎ BRTA থেকে ইস্যু করা QR-যুক্ত official electronic document যাচাইযোগ্য। তবে মোবাইলের gallery-তে রাখা যেকোনো ছবি বা নিজে scan করা photocopy-কে official e-document ধরে নেওয়া যাবে না।

তিনজন নিয়ে বাইক চালালে কত টাকা জরিমানা?

আইনের ৪৯ ধারায় মোটরসাইকেলের চালক ছাড়া সর্বোচ্চ একজন যাত্রী বহনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ চালকসহ মোট দুইজন। একই সঙ্গে দুজনকেই helmet ব্যবহার করতে হবে।

এই বিধান অমান্য ধারা ৯২-এর প্রথম অংশের আওতায় গেলে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে।

উল্লিখিত ধারায় শিশুকে দ্বিতীয় অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে নেওয়ার কোনো সাধারণ exemption পাওয়া যায়নি। তাই “শিশু হলে তিনজন চলা যাবে”—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলে জরিমানা

সড়ক পরিবহন আইনের ৪২ ধারায় traffic sign ও signal মানার বাধ্যবাধকতা আছে। একই ধারায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, মোটরযান পরিদর্শক বা ইউনিফর্মধারী পুলিশ কর্মকর্তার আইনসিদ্ধ stop instruction মানার বিধানও রয়েছে।

ধারা ৮৫ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড অথবা উভয়, সঙ্গে এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে।

২০২৬ সালে ঢাকায় DMP CCTV ও e-traffic prosecution-এর মাধ্যমে red light, stop line, wrong-way driving, illegal parkingসহ বিভিন্ন violation শনাক্ত করে notice পাঠানোর কার্যক্রমও চালাচ্ছে।

উল্টো পথে বাইক চালালে কী শাস্তি?

Wrong-way driving-এর বিষয়ে আইন বেশ পরিষ্কার। ৪৯ ধারায় বিপরীত দিক দিয়ে মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ। এই বিধান ভাঙলে ধারা ৯২ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে।

এখানেও ১০ হাজার টাকা হলো statutory maximum; ঘটনাস্থলের প্রতিটি prosecution-এর fixed amount নয়।

অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালানোর জরিমানা

সড়ক পরিবহন আইনের ৪৪ ধারায় সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে রাস্তা ও মোটরযানের শ্রেণি বিবেচনায় speed limit নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশের সব রাস্তায় মোটরসাইকেলের জন্য একটাই speed limit নয়।

BRTA ২০২৪ সালে মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪ প্রকাশ করেছে। ফলে road class, location এবং vehicle category অনুযায়ী প্রযোজ্য limit এবং সড়কের posted speed sign অনুসরণ করা দরকার।

Speed limit লঙ্ঘনের জন্য ধারা ৮৭-এ সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্টের বিধান রয়েছে।

একই অপরাধ পুনরায় করলে আইনের ১০০ ধারার repeat-offence provision-এর কারণে শাস্তি বাড়তে পারে।

মোবাইল ব্যবহার করে বাইক চালালে কী মামলা হতে পারে?

৪৯ ধারার দ্বিতীয় অংশে গাড়ি চালানোর সময় mobile phone বা অনুরূপ equipment ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এর জন্য ধারা ৯২(২)-এ সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা অথবা সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা উভয়, সঙ্গে এক ডিমেরিট পয়েন্টের বিধান রয়েছে।

কেবল ফোনে কথা বলাই নয়—হাতে ফোন নিয়ে এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে driving-এর সময় মনোযোগ নষ্ট হয়, সেটি এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ও আইনসম্মত।

Modified bike ও loud exhaust-এর জরিমানা

“বাইকে modification করলেই মামলা”—এভাবে বলা সঠিক নয়।

সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারায় মোটরযানের অনুমোদিত technical specifications—যেমন dimensions, seat, wheel/tyre, braking system, steering, horn, safety equipment, signal light, emissions এবং noise-related specification-এর বাইরে পরিবর্তনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিছু technical/internal/external পরিবর্তনের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

অননুমোদিত পরিবর্তন যদি ধারা ৪০ ভঙ্গ করে, ধারা ৮৪-এর কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে—সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা এক থেকে তিন বছর কারাদণ্ড, অথবা উভয়।

অন্যদিকে loud exhaust বা horn যদি আইনসিদ্ধ সীমার বেশি শব্দ সৃষ্টি করে, ধারা ৪৫/৮৮ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে।

তাই aftermarket exhaust, horn, headlight বা body modification করার আগে BRTA-approved specification ভাঙছে কি না দেখা দরকার।

ট্রাফিক মামলার কাগজ পেলে কী করবেন?

Step 1: মামলার কাগজ ভালোভাবে দেখুন

প্রথমেই prosecution slip বা notice-এ দেখুন:

  1. Case/prosecution/reference number
  2. মোটরসাইকেলের registration number
  3. কোন আইন ও ধারা দেওয়া হয়েছে
  4. অপরাধের বিবরণ
  5. কত টাকা দিতে বলা হয়েছে
  6. কোথায় ও কীভাবে পরিশোধ করতে হবে
  7. court/traffic division-এ হাজির হওয়ার কোনো নির্দেশ আছে কি না

Step 2: মামলাটি অনলাইনে দেখা যায় কি না যাচাই করুন

২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত BRTA বা বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি public service-এ এমন কোনো nationwide self-service traffic case checker এই যাচাইয়ে পাওয়া যায়নি, যেখানে বাংলাদেশের যেকোনো গাড়ির number plate বা NID লিখলেই সব traffic case দেখা যাবে।

DMP-তে e-traffic prosecution system চালু আছে এবং ২০২৬ সালে CCTV-ভিত্তিক automated prosecution notice-ও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এটিকে nationwide BRTA public case-search portal মনে করা যাবে না। বাংলাদেশ পুলিশও DMP-তে e-traffic prosecution system থাকার তথ্য দেয়।

তাই random website বা Facebook link-এ NID, OTP বা payment information দেবেন না।

Step 3: জরিমানা পরিশোধ করুন

আইনের ১১৩ ধারার spot prosecution-এর ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণ এবং receipt দেওয়ার বিধান আছে।

ঢাকায় ২০২৬ সালের CCTV-based DMP e-prosecution notice সম্পর্কে DMP-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা BSS জানিয়েছে—notice পাওয়া ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট traffic division অথবা DMP headquarters-এ যোগাযোগ করে bank বা mobile banking-এর মাধ্যমে fine নিষ্পত্তি করতে বলা হচ্ছে।

তবে provider/account নিজে অনুমান করবেন না। Notice বা prosecution slip-এ থাকা বর্তমান official payment instruction অনুসরণ করুন।

Step 4: নিষ্পত্তির প্রমাণ রাখুন

Payment receipt, bank/mobile transaction confirmation, prosecution slip এবং প্রয়োজন হলে traffic office/court থেকে পাওয়া clearance বা returned document সংরক্ষণ করুন।

কেবল payment screenshot রেখে মূল receipt ফেলে দেওয়া ঠিক নয়।

অনলাইনে ট্রাফিক মামলা চেক করার নিয়ম

সংক্ষিপ্ত উত্তর: ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই করা সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সব এলাকার traffic case কেবল bike number বা NID দিয়ে দেখার একটি nationwide public portal পাওয়া যায়নি। DMP-তে e-traffic prosecution system আছে, কিন্তু BRTA BSP-এর public services মূলত licence, vehicle document, tax/fee ও e-document verification-এর জন্য।

বাইকের নাম্বার দিয়ে ট্রাফিক মামলা চেক করা যায় কি?

DMP-এর internal/e-prosecution system registration information ব্যবহার করতে পারে এবং CCTV-based ক্ষেত্রে vehicle owner-কে notice পাঠাতে পারে। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য শুধু number plate লিখে nationwide case list পাওয়ার verified government portal এই যাচাইয়ে পাওয়া যায়নি।

NID দিয়ে মামলা দেখা যায় কি?

Traffic case-এর জন্য nationwide public NID search facility পাওয়া যায়নি। NID চাইছে এমন অচেনা traffic-fine website-এ তথ্য দেবেন না।

SMS দিয়ে মামলা চেক করা যায় কি?

সারা দেশের সব traffic case on-demand SMS দিয়ে check করার বর্তমান সরকারি পদ্ধতি পাওয়া যায়নি। কোনো prosecution-এর SMS/notice পেলে তার official reference ও issuing authority যাচাই করুন।

DMP traffic case check

DMP e-traffic prosecution চালু রেখেছে। ২০২৬ সালে AI/CCTV-based auto-prosecution ব্যবস্থাও সম্প্রসারিত হয়েছে। Automated notice পেলে সংশ্লিষ্ট DMP traffic division বা DMP headquarters-এর official channel ব্যবহার করুন।

BRTA website দিয়ে traffic fine দেখা যায়?

BRTA Service Portal-এ driving licence, vehicle services এবং QR-ভিত্তিক e-tax token, e-driving licence ও e-fitness verification পাওয়া যায়। কিন্তু যাচাই করা public BSP pages-এ nationwide traffic prosecution search service পাওয়া যায়নি।

মামলা না দিলে বা জরিমানা পরিশোধ না করলে কী হয়?

এটি মামলার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

Spot prosecution-এর ক্ষেত্রে আইনের ১১৩ ধারায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নির্ধারিত জরিমানা না দিলে বা অভিযোগের copy গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট vehicle নিকটস্থ থানায় পাঠিয়ে জরিমানা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখার বিধান আছে।

আর ২০২৬ সালের DMP CCTV e-prosecution notice উপেক্ষা করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা, এমনকি summons বা warrant-এর পর্যায়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা DMP-এর public statement-এ জানানো হয়েছে।

তবে “যেকোনো unpaid traffic case হলেই BRTA-এর সব service বন্ধ হয়ে যাবে”—এমন blanket rule এই যাচাইয়ে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই notice বা case paper-এ দেওয়া নির্দেশই অনুসরণ করতে হবে।

পুলিশ কি মোটরসাইকেল আটক করতে পারে?

হ্যাঁ, আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোটরযান আটক বা document জব্দের ক্ষমতা রয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইনের ১১২ ধারায় registration, fitness ও route permit-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অনিয়মে সার্জেন্ট/সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত motor vehicle inspector-এর vehicle seize/detain করার ক্ষমতা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে registration certificate জব্দ করলে receipt দেওয়ার বিধানও আছে।

Spot fine-এর ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থ না দেওয়ার পরিস্থিতিতেও ১১৩ ধারার অধীনে vehicle থানায় পাঠানোর বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে চালকেরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার রয়েছে—কোন অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাওয়া, prosecution/complaint-এর copy নেওয়া, seizure হলে receipt নেওয়া এবং official receipt ছাড়া টাকা না দেওয়া।

ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিলে চালকের করণীয়

  1. শান্ত থাকুন: তর্ক বা বাধা না দিয়ে আইনসিদ্ধ নির্দেশ মানুন।
  2. অপরাধটি জানতে চান: কোন নিয়ম বা ধারা ভঙ্গের অভিযোগ করা হচ্ছে জেনে নিন।
  3. Prosecution slip নিন: case/prosecution number পরিষ্কার আছে কি না দেখুন।
  4. ধারা মিলিয়ে দেখুন: slip-এ লেখা section-এর সঙ্গে অপরাধের ধরন মিলছে কি না দেখুন।
  5. Unofficial cash payment এড়িয়ে চলুন: ব্যক্তিগত নম্বর বা account-এ টাকা পাঠাবেন না।
  6. Official receipt নিন: আইনে spot fine-এর payment receipt দেওয়ার বিধান রয়েছে।
  7. ভুল মনে হলে challenge করুন: issuing traffic division বা case court-এ চলে গেলে সংশ্লিষ্ট আদালতের prescribed process অনুসরণ করুন। কর্তৃপক্ষের administrative order-এর ক্ষেত্রে আইনের ১০৭ ধারায় review ও appeal-এর ব্যবস্থাও রয়েছে; তবে সেটি প্রতিটি police prosecution-এর স্বয়ংক্রিয় appeal route নয়।

আরো পড়ুনঃ ঘরে বসেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন

বাইকারদের জন্য ১০টি জরুরি ট্রাফিক আইন

১. বৈধ motorcycle driving licence রাখুন।
মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং licence category মোটরসাইকেলের জন্য প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করুন।

২. Registration ঠিক রাখুন।
Registration ছাড়া বাইক রাস্তায় বের করা গুরুতর অপরাধ এবং statutory fine অনেক বেশি।

৩. চালক ও যাত্রী দুজনই helmet পরুন।
Helmet কেবল মাথায় রাখলেই নয়; নিরাপদভাবে ব্যবহার করুন।

৪. Number plate ঢাকবেন বা পরিবর্তন করবেন না।
Fake বা altered registration-এর শাস্তি সাধারণ traffic violation-এর তুলনায় অনেক কঠোর।

৫. একজনের বেশি pillion নেবেন না।
আইনে চালকের সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন যাত্রীর বিধান রয়েছে।

৬. Signal ও stop line মানুন।
ঢাকায় CCTV-based e-prosecution-এর ব্যবহারও বাড়ছে।

৭. Posted speed limit অনুসরণ করুন।
সব রাস্তায় একই limit নয়; road class ও location অনুযায়ী পরিবর্তন হয়।

৮. বাইক চালানোর সময় ফোন ব্যবহার করবেন না।
Mobile phone use-এর জন্য আলাদা penalty provision রয়েছে।

৯. উল্টো পথে বা footpath দিয়ে বাইক চালাবেন না।
দুটিই সড়ক পরিবহন আইনের অধীনে prosecution-এর কারণ হতে পারে।

১০. Modification করার আগে specification দেখুন।
বিশেষ করে loud exhaust, horn, lighting, number plate ও structural change-এর ক্ষেত্রে BRTA-approved specification অনুসরণ করুন।

Frequently Asked Questions

বাংলাদেশে হেলমেট না পরলে কত টাকা জরিমানা?

মোটরসাইকেল চালক ও পেছনের যাত্রীর helmet ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ধারা ৪৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান ভঙ্গ করলে ধারা ৯২ অনুযায়ী আইনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে। তবে ঘটনাস্থলের prosecution amount সব ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা নয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালালে কত টাকা জরিমানা?

বৈধ licence বা প্রযোজ্য learner licence ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে ধারা ৬৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা উভয় হতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ licence নিয়েও চালানো বৈধ নয়। Actual prosecution amount সংশ্লিষ্ট মামলা ও কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

তিনজন নিয়ে মোটরসাইকেল চালালে মামলা হয় কি?

হ্যাঁ। সড়ক পরিবহন আইনের ৪৯ ধারায় মোটরসাইকেলের চালকের সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন যাত্রী বহনের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ চালকসহ দুইজন। এর বেশি যাত্রী বহন করলে ধারা ৯২ অনুযায়ী prosecution হতে পারে এবং আইনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানার সীমা রয়েছে।

বাইকের কাগজ না থাকলে কত টাকা জরিমানা?

“কাগজ না থাকা”র জন্য একটি মাত্র জরিমানার অঙ্ক নেই। Registration না থাকলে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা, fitness প্রযোজ্য থাকা অবস্থায় না থাকলে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা এবং tax token-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকার আলাদা বিধান রয়েছে। কোন document অনিয়ম হয়েছে সেটি আগে দেখতে হবে।

বাইকের নাম্বার দিয়ে মামলা চেক করা যায় কীভাবে?

৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই করা সরকারি public services-এর মধ্যে কেবল bike number দিয়ে বাংলাদেশের সব traffic case দেখার nationwide portal পাওয়া যায়নি। DMP e-prosecution চালু রেখেছে এবং CCTV-based notice পাঠাচ্ছে। Notice পেলে case/reference number নিয়ে সংশ্লিষ্ট traffic division-এর official channel-এ যাচাই করাই নিরাপদ।

ট্রাফিক মামলা অনলাইনে পরিশোধ করা যায় কি?

Payment method মামলা ও police unit অনুযায়ী নির্ভর করতে পারে। ঢাকার CCTV e-prosecution notice-এর ক্ষেত্রে DMP ২০২৬ সালে bank বা mobile banking-এর মাধ্যমে fine settlement-এর কথা জানিয়েছে, তবে relevant traffic division বা DMP headquarters-এর process অনুসরণ করতে হয়। Slip-এ দেওয়া official instruction ছাড়া ব্যক্তিগত নম্বরে অর্থ পাঠাবেন না।

ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলে কত টাকা জরিমানা?

Traffic signal বা road sign অমান্য করলে ধারা ৮৫ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে। এটি statutory maximum; বাস্তব prosecution slip-এ একই অপরাধে প্রদেয় অর্থ সব সময় ১০ হাজার টাকা হবে—এমন নয়।

উল্টো পথে বাইক চালালে কত টাকা জরিমানা?

আইনের ৪৯ ধারায় বিপরীত দিকে মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ। এ অপরাধ ধারা ৯২-এর আওতায় গেলে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে। Dhaka-তে wrong-way violation CCTV দিয়েও শনাক্ত করা হচ্ছে।

মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাইক চালালে মামলা হয় কি?

হ্যাঁ। মোটরযান চালানোর সময় mobile phone বা অনুরূপ equipment ব্যবহার নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট বিধান ভাঙলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড অথবা উভয় এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট হতে পারে। নিরাপত্তার জন্য riding অবস্থায় হাতে ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।

Modified exhaust ব্যবহার করলে মামলা হয় কি?

সব aftermarket exhaust স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই অপরাধ নয়। তবে exhaust modification যদি অনুমোদিত technical specification ভাঙে বা নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত noise তৈরি করে, সড়ক পরিবহন আইনের modification এবং noise provisions প্রযোজ্য হতে পারে। Excessive noise-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

ট্রাফিক মামলা কত দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়?

সব ধরনের traffic prosecution-এর জন্য “অবশ্যই X দিনের মধ্যে দিতে হবে”—এমন একটি nationwide universal deadline সরকারি সূত্রে এই যাচাইয়ে পাওয়া যায়নি। তাই prosecution slip, e-prosecution notice বা court summons-এ যে সময়সীমা দেওয়া থাকবে সেটিই অনুসরণ করুন। Deadline অস্পষ্ট হলে issuing traffic division-এ reference number দিয়ে যাচাই করুন।

মামলা বা জরিমানা না দিলে কী হয়?

Spot prosecution-এর ক্ষেত্রে নির্ধারিত fine না দিলে আইন অনুযায়ী কিছু পরিস্থিতিতে vehicle থানায় পাঠিয়ে payment না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখা হতে পারে। DMP-এর ২০২৬ CCTV notice উপেক্ষার ক্ষেত্রে summons বা warrantসহ পরবর্তী legal action-এর সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। তাই notice অবহেলা না করে official channel-এ দ্রুত যাচাই করা উচিত।

ট্রাফিক পুলিশ কি বাইক আটক করতে পারে?

হ্যাঁ, তবে আইনে নির্ধারিত ভিত্তি থাকতে হবে। Registration, fitness বা প্রযোজ্য permit-এর কিছু violation-এ ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বা motor vehicle inspector গাড়ি seize/detain করতে পারেন। Spot fine না দেওয়ার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেও vehicle থানায় পাঠানোর বিধান আছে। Document জব্দ করা হলে applicable receipt সংগ্রহ করুন।

ভুয়া নাম্বার প্লেট ব্যবহার করলে কী শাস্তি?

Fake বা altered registration/registration number সাধারণ number plate না থাকার তুলনায় গুরুতর অপরাধ। ধারা ৭৩ অনুযায়ী এর জন্য ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় হতে পারে। তাই number plate-এর অক্ষর, সংখ্যা বা registration identity ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা উচিত নয়।

একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে জরিমানা বাড়ে কি?

হ্যাঁ, সড়ক পরিবহন আইনের repeat-offence provision অনুযায়ী একই অপরাধ পুনরায় করলে আগের তুলনায় বাড়তি শাস্তি হতে পারে। ধারা ১০০-তে পুনরাবৃত্ত অপরাধের জন্য শাস্তি বৃদ্ধির বিধান রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট মামলায় কত টাকা হবে তা সংশ্লিষ্ট offence, পূর্বের conviction এবং কর্তৃপক্ষ বা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তথ্যসূত্র

  • সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ — বাংলাদেশ আইন/সরকারি আইনভান্ডার: licence, registration, signal, speeding, helmet, modification, seizure ও penalty provisions।
  • Bangladesh Road Transport Authority (BRTA): registration, fitness, e-driving licence এবং BSP electronic-document verification।
  • Bangladesh Police: DMP-তে e-traffic prosecution system চালুর সরকারি তথ্য।
  • Dhaka Metropolitan Police: ২০২৬ সালে AI-based auto-prosecution infrastructure সম্প্রসারণের সরকারি procurement record।
  • সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ ও BRTA নির্দেশিকা: subordinate rules এবং vehicle speed guideline-এর জন্য BRTA-এর সর্বশেষ প্রকাশিত নথি যাচাই করা উচিত।