জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাড়িভাড়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম মজুরির প্রতিবাদে পর্তুগালে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী লিসবন ও পোর্তোর রাস্তায় নেমে সাশ্রয়ী আবাসন এবং জীবনধারণের উপযোগী বেতনের দাবি জানান তাঁরা। আভেইরো ও ব্রাগাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।
‘নাঁও দা মাইশ পারা ভিভের আসিম’—বাংলায় যার অর্থ ‘এভাবে আর বেঁচে থাকা যায় না’—নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে শ্রমিক ইউনিয়ন, আবাসন অধিকার, লিঙ্গসমতা, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, জলবায়ু ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করা ৩০টির বেশি সংগঠন যুক্ত রয়েছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম কোরেইও দা মানহা জানিয়েছে, লিসবনের লার্গো দো ইনতেন্দেন্তে চত্বরে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে ভরে ওঠে চত্বর। সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা।
‘এই বেতনে জীবন চলে না’—ছিল বিক্ষোভের অন্যতম বার্তা। অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, প্রতিদিনের খরচ যেভাবে বাড়ছে, আয় সেভাবে বাড়ছে না। ফলে চাকরি করেও বাসাভাড়া ও মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তোর মতো শহরে আবাসনের ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। উচ্চ ভাড়া ও বাড়ির দামের কারণে উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছেন না অনেক বাসিন্দা। তরুণ, কর্মজীবী মানুষ ও পরিবারগুলোর জন্য বাসাভাড়ার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদমাধ্যম পুবলিকো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে প্রতিবেশী স্পেনের আবাসনসংকট ও সেখানকার আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাঁদের দাবি, একজন মানুষের চাকরি থেকে এমন আয় থাকা উচিত, যা দিয়ে বাসস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্মানজনক জীবনযাপন সম্ভব।
বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী দল ব্লোকো দে এসকেরদার নেতা জোসে মানুয়েল পুরেজা। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে ক্রমেই বেশি মানুষ নিজেদের বিল পরিশোধ করতে পারছেন না, অন্যদিকে অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে বিপুল মুনাফা জমা হচ্ছে।
সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটেরও সমালোচনা করেন পুরেজা। তাঁর মতে, এ প্রস্তাব বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত রাখার সুযোগ দেবে। বাজেটের ওপর সংসদীয় ভোটে তাঁর দল বিরত থাকবে না বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণের দাবি তোলেন।
লিভরে দলের ইসাবেল মেন্দেস লোপেসও বাজেট প্রস্তাবের সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রো সাধারণ মানুষের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিশেষ করে মাসে ২ হাজার ৩০০ ইউরো পর্যন্ত ভাড়াকে ‘মধ্যম ভাড়া’ হিসেবে বিবেচনার বিষয়ে আপত্তি জানান লোপেস। তাঁর বক্তব্য, এমন ধারণার সঙ্গে অধিকাংশ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতার মিল নেই। পর্তুগালে মজুরি এখনো কম হওয়ায় অনেক পরিবার মাস শেষে প্রয়োজনীয় বিল পরিশোধ করতেই সমস্যায় পড়ছে।
আয়োজকদের দাবির মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং, জ্বালানি ও বৃহৎ খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপ এবং আবাসনসংকট মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। বাড়তে থাকা ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের ব্যবধান কমাতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ চান তাঁরা।
