স্পোর্টস ডেস্ক: স্টাদিও অলিম্পিকোতে ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত দৃশ্যটা ছিল রোমার। ৩–১ গোলে এগিয়ে থেকে ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদকে হারানোর অপেক্ষায় ছিল ইতালিয়ান ক্লাবটি। কিন্তু শেষ সাত মিনিটেই বদলে গেল পুরো ম্যাচ। একে একে তিন গোল করে রোমাকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল রিয়াল মাদ্রিদ।
বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমার মাঠে এই জয় পেয়েছে হোসে মরিনিওর দল। ম্যাচের ৮৩ মিনিটেও ৩–১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল। এরপর কার্লোস এস্পি, এন্দ্রিক ও আন্তোনিও রুডিগারের গোলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
ডি রুনের গোলে শুরু রোমার
ঘরের মাঠে শুরু থেকেই রিয়ালের ওপর চাপ তৈরি করেছিল রোমা। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই মারিও এরমোসোর শট ঠেকিয়ে রিয়ালকে বিপদমুক্ত করেন থিবো কোর্তোয়া।
তবে ২০ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। বক্সের বাইরে থেকে মার্টেন ডি রুনের শট ডনিয়েল মালেনের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। রোমা এগিয়ে যায় ১–০ গোলে।
সেই আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে। দূরপাল্লার তাঁর শট রোমা ডিফেন্ডার জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে দিক বদলে গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোলিনিকে পরাস্ত করে। স্কোর তখন ১–১।
মালেনের জোড়া গোলে ৩–১
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রোমা। ৫১ মিনিটে গোল করে স্বাগতিকদের আবার এগিয়ে দেন ডনিয়েল মালেন।
সাত মিনিট পর আবারও রিয়ালের রক্ষণ ভাঙেন ডাচ ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রোমাকে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মালেন। তখন মনে হচ্ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে বড় এক জয়ই পেতে যাচ্ছে রোমা।
রিয়ালের হয়ে এমবাপ্পে এরপর আরও একবার জালে বল পাঠিয়েছিলেন। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
৮৩ মিনিট থেকে বদলে গেল ম্যাচ
ম্যাচের আসল নাটক শুরু হয় ৮৩ মিনিটে। আরদা গুলারের কর্নার থেকে এন্দ্রিকের হেড গোলরক্ষক গোলিনি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল কাছ থেকে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩–২ করেন বদলি খেলোয়াড় কার্লোস এস্পি।
চার মিনিট পর আবার কর্নার থেকে গোল। এবার গুলারের বল সরাসরি হেডে জালে পাঠান এন্দ্রিক। ৮৭ মিনিটে স্কোর হয়ে যায় ৩–৩। কিন্তু রিয়াল তখনও থামেনি।
রুডিগারের গোলে অবিশ্বাস্য জয়
সমতার পরও জয়ের জন্য আক্রমণ চালিয়ে যায় মরিনিওর দল। আরেকটি কর্নার থেকে জুড বেলিংহামের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর আবার সুযোগ আসে।
৮৯ মিনিটে গুলারের কর্নার থেকে অ্যাক্রোবেটিক ফিনিশে বল জালে পাঠান আন্তোনিও রুডিগার।
মাত্র সাত মিনিট আগে যে রিয়াল ৩–১ গোলে পিছিয়ে ছিল, তারাই তখন ৪–৩ গোলে এগিয়ে।
শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই রোম থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের শেষ তিনটি গোলই এসেছে কর্নার-পরবর্তী আক্রমণ থেকে।
এই জয়ে ২০২৬–২৭ চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ থেকেই পূর্ণ ৬ পয়েন্ট পেল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২–১ গোলে হারিয়েছিল তারা।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ফেনারবাহচের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করা রোমার দুই ম্যাচ শেষে সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। উয়েফার সূচি অনুযায়ী রিয়ালের পরবর্তী ম্যাচ ২১ অক্টোবর ঘরের মাঠে লাইপজিগের বিপক্ষে। আর ২০ অক্টোবর রোমা খেলবে স্লোভান ব্রাতিস্লাভার বিপক্ষে।
