বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, সম্পত্তি নিয়ে ফাটকাবাজি এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকটের প্রতিবাদে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) মার্কেস দে পোম্বাল থেকে রোসিও স্কয়ারের দিকে মিছিল করেন তাঁরা। সরকারের কাছে দাবি জানান জরুরি পদক্ষেপের।
‘আকামপাদা দে লিসবোয়া’ আন্দোলনের আয়োজনে এই কর্মসূচির স্লোগান ছিল, ‘আমাদের ঘর নেই, তাই তাঁবু খাটিয়েছি!’ আবাসনের অধিকারের দাবিতে লিসবনের পাশাপাশি পর্তুগালের আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ও গণসমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর পোর্তোতে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচি পরে লিসবনসহ অন্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। রোসিও স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের তাঁবু আবাসনসংকটের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এর মধ্যে ২০ অক্টোবর ভোরে লিসবন ও পোর্তোর প্রতিবাদী শিবির সরিয়ে দেয় পুলিশ। লিসবনে আটক হন ৫৫ জন। তবে ওই দিনই দুই শহরের চত্বরে ফিরে এসে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা।
শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে পর্তুগালের জননিরাপত্তা পুলিশ পিএসপি জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বজায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে লিসবন ও পোর্তোর পরিস্থিতির ওপর।
পুলিশের ভাষ্য, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপ, যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাফিক পুলিশ ও দ্রুত হস্তক্ষেপকারী দল মোতায়েনের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিটগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মিছিলে যোগ দিয়ে সরকারের আবাসননীতির সমালোচনা করেন কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক। লেফট ব্লকের নেতা জোসে মানুয়েল পুরেজা বলেন, বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
শ্রম আইন পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, জনচাপের মুখে সরকারের ভাড়াবাড়িসংক্রান্ত পদক্ষেপও বদলাতে পারে। বিক্ষোভ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি।
লিসবনের কমিউনিস্ট পার্টির কাউন্সিলর জোয়াও ফেরেইরার অভিযোগ, সরকারের পদক্ষেপ আবাসনের সুযোগ বাড়ানোর পরিবর্তে সম্পত্তি নিয়ে ফাটকাবাজি আরও বাড়াতে পারে। তাঁর মতে, ভাড়ার চুক্তিতে অনিশ্চয়তা এবং মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন ব্যয় ক্ষোভ তৈরি করছে।
লিভরে দলের সংসদ সদস্য ইজাবেল মেন্দেস লোপেসও বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁর দাবি, আন্দোলন ইতিমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। বিক্ষোভ শুরুর পর সরকারি কর্মকর্তা ও ডানপন্থী দলগুলোর বক্তব্যের সুর কিছুটা নমনীয় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাসস্থানকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাড়িভাড়া, আবাসনের মূল্য এবং নিরাপদ ভাড়াচুক্তির প্রশ্নে সরকারের কাছ থেকে দৃশ্যমান পরিবর্তন চাইছেন তাঁরা।
