এবার শীত কেমন হবে? তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কম হওয়ার আভাস

bangladesh winter forecast 2026-27

এবার শীত কেমন হবে—হেমন্তের শুরুতেই প্রশ্নটি সামনে এসেছে। আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক ধারণা, আসন্ন মৌসুমে শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় নভেম্বর থেকেই ঠান্ডা বাড়বে। রাজধানী ঢাকায় শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে পারে ডিসেম্বরে।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। উত্তরের কিছু এলাকায় রাতের শেষ ভাগে শীতলতা অনুভূত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের মাঠঘাট ও জলাশয়ের আশপাশে ভোরে দেখা যাচ্ছে হালকা কুয়াশা।

২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের বক্তব্যে শীতের সম্ভাব্য সময় ও তাপমাত্রার এই আভাস উঠে এসেছে। এগুলো সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস; নির্দিষ্ট দিনের নিশ্চিত তাপমাত্রা নয়।

উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা নামতে পারে ১৭ ডিগ্রিতে

তরিফুল নেওয়াজ কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শুরুতে উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় তাপমাত্রা প্রায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। মাসের শেষ দিকে কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তবে কোন জেলায় কত দিন শৈত্যপ্রবাহ চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত পূর্বাভাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো—

অঞ্চল বা বিষয়সম্ভাব্য সময়তাপমাত্রা বা পরিস্থিতির আভাস
উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলানভেম্বরের শুরুতাপমাত্রা প্রায় ১৭° সেলসিয়াসে নামতে পারে
উত্তরাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকানভেম্বরের শেষ ভাগশৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে
রাজধানী ঢাকাডিসেম্বর থেকেশীতের অনুভূতি বাড়তে পারে; তাপমাত্রা প্রায় ১৫° সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা
সামগ্রিক শীত মৌসুমআসন্ন শীতকালতীব্রতা ও স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে

তাপমাত্রাগুলো সম্ভাব্য আভাস। এগুলো সব জেলার জন্য প্রযোজ্য নয় এবং দৈনিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নিশ্চিত তালিকাও নয়।

ঢাকায় ঠান্ডা বাড়তে পারে ডিসেম্বরে

উত্তরাঞ্চলের তুলনায় ঢাকায় শীতের প্রভাব দেরিতে স্পষ্ট হতে পারে। ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাতাসের দিক ও গতি, আকাশে মেঘের উপস্থিতি এবং নগরায়ণের প্রভাবে ঢাকার আবহাওয়া আশপাশের খোলা এলাকার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।

ফলে উত্তরে ঠান্ডা বাড়লেই একই সময়ে রাজধানীতে সমান শীত অনুভূত হবে, এমন নয়।

ভোরের কুয়াশা মানেই তীব্র শীত নয়

মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকের বাতাসের প্রভাব বাড়তে পারে। এই প্রবাহ জোরালো হলে শীতের অনুভূতিও বাড়বে।

তবে ভোরে কুয়াশা দেখা গেলেই শীত জেঁকে বসেছে বলা যায় না। এ সময়ে সকালে ঠান্ডা অনুভূত হলেও দুপুরে রোদের কারণে গরম লাগতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমলে শীতের আমেজ আরও স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুন: আগামী ৭ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস