দেশজুড়ে চলমান তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজারে দাম বেশ চড়া থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ কম, আর মুরগি ও ডিমের দাম কমলেও তা এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল। এ ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায়।
বিক্রেতারা জানান, শীতকালে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে খামারিরা দ্রুত মুরগি বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন, ফলে সরবরাহ বেড়েছে। এতে দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। নতুন বাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, চাহিদাও কিছুটা কম থাকে। তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।’
সবজির দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও মাছের বাজারে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বড় আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকায় এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা রফিকুল আলম জানান, শীতকালে নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়ায় আড়তে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ সেটার দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি আছে।’
অন্যদিকে বনশ্রী বাজারের ক্রেতা আবুল হাসান বলেন, ‘মাছের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মুরগির দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো।’
