পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। আত্মসংযম, ইবাদত ও তাকওয়া অর্জনের এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত রোজা পালন করেন।
রবিবার (০৮ মার্চ) বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র রমজান মাসের ১৮তম রোজা। রমজানের ১৮ নম্বর রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয় – “রোজাদার এবং তার মা-বাবার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়।”
সঠিক সময়ে সেহরি ও ইফতার করা রোজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মুসল্লিদের সুবিধার্থে নিচে দেশের বিভাগভিত্তিক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
📅 ১৮ রমজান ২০২৬ (বাংলাদেশ সময়)
| বিভাগ | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|
| ঢাকা বিভাগ | ভোর ৪:৫৮ | সন্ধ্যা ৬:০৭ |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | ভোর ৪:৫৩ | সন্ধ্যা ৬:০১ |
| সিলেট বিভাগ | ভোর ৪:৫০ | সন্ধ্যা ৬:০০ |
| খুলনা বিভাগ | ভোর ৫:০২ | সন্ধ্যা ৬:১০ |
| রাজশাহী বিভাগ | ভোর ৫:০৩ | সন্ধ্যা ৬:১২ |
| রংপুর বিভাগ | ভোর ৫:০২ | সন্ধ্যা ৬:১০ |
| বরিশাল বিভাগ | ভোর ৪:৫৯ | সন্ধ্যা ৬:০৬ |
| ময়মনসিংহ বিভাগ | ভোর ৪:৫৭ | সন্ধ্যা ৬:০৭ |
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাধারণত ঢাকা জেলার সময়কে ভিত্তি ধরে রমজানের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। অন্যান্য জেলায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে।
তাই সেহরি ও ইফতার করার ক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষণাও অনুসরণ করা উত্তম।
রমজান মাসে মুসলমানরা বেশি বেশি ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এই মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
রমজানের রোজা সংক্রান্ত FAQ
১. ১৮ তম রোজার প্রধান ফজিলত কী?
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, ১৮ তম রোজার ফজিলত হলো, আল্লাহ পাক রোজাদার এবং তার মা-বাবার প্রতি সন্তুষ্টির সুসংবাদ জানান [৩, ৪]।
২. এই দিনের জন্য কি বিশেষ কোনো দুআ আছে?
হ্যাঁ, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দিনে যে দুআটি পড়তেন: “আল্লাহুম্মা নাব্বিহনি ফিহি লি-বারাকাতি আসহারিহি; ওয়া নাওয়্যের ফিহি ক্বালবি বি-দিয়ায়ি’ আনওয়ারিহি; ওয়া খুজ বিকুল্লি আ’দাই ইলাত্তিবা-ই আ-সারিহি” [২]।
৩. ১৮ তম রোজায় কত পারা পড়া হয়?
১৮ তম রোজার তারাবি নামাজে সাধারণত ২১তম পারা পাঠ করা হয় [১]। এই দিনের তারাবিতে সুরা আনকাবুত-এর ৪৫ নম্বর আয়াত থেকে সুরা আহজাব-এর ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হয়
৪. সব জেলার সময় কি একই হয়?
না। সাধারণত ঢাকা জেলার সময় অনুযায়ী সময়সূচি দেওয়া হয়। অন্যান্য জেলায় কয়েক মিনিট কম বা বেশি হতে পারে।
৫. সেহরি না খেলে কি রোজা হবে?
হ্যাঁ, সেহরি না খেলেও রোজা হবে। তবে সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে অনেক বরকত রয়েছে।
