২৫ রমজান ২০২৬: বিভাগভিত্তিক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

Ajker Sehri Iftar

২৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি অনুযায়ী বাংলাদেশে তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, রবিবার। এই দিনের সময়সূচি সাধারণত ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের রমজান ক্যালেন্ডার অনুসারে নির্ধারিত হয়।

২৫ রমজান ২০২৬(বাংলাদেশ সময়)

বিভাগসেহরির শেষ সময়ইফতারের সময়
ঢাকা৪:৫২ AM৬:০৯ PM
চট্টগ্রাম৪:৪৭ AM৬:০৩ PM
রাজশাহী৪:৫৮ AM৬:১৬ PM
খুলনা৪:৫৬ AM৬:১২ PM
বরিশাল৪:৫৩ AM৬:০৭ PM
সিলেট৪:৪৫ AM৬:০৩ PM
রংপুর৪:৫৬ AM৬:১৪ PM
ময়মনসিংহ৪:৫৪ AM৬:১০ PM

দ্রষ্টব্য: সময়গুলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঢাকা সময়ের সাথে অঞ্চলভেদে কয়েক মিনিট যোগ-বিয়োগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবে ±১–২ মিনিট পরিবর্তন হতে পারে।

রমজানের সম্পর্কিত কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

রমজানের রোজা রেখে স্ত্রীকে চুমু দেওয়া যাবে কি?

রমজান মাসে রোজা অবস্থায় দিনের বেলা স্ত্রীকে চুমু দেওয়া, আদর করা বা আলিঙ্গন করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো—এটি যেন সহবাস বা বীর্যপাত পর্যন্ত না পৌঁছে।

হাদিসে এসেছে—
হযরত Aisha (রা.) বলেন:

“নবী Muhammad (সা.) রোজা অবস্থায় চুমু দিতেন এবং গায়ের সাথে গা লাগাতেন। তবে তিনি তাঁর যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণে তোমাদের চেয়ে বেশি সক্ষম ছিলেন।”
— Sahih al-Bukhari (১৯২৭), Sahih Muslim (১১০৬)

আলেমদের ব্যাখ্যা প্রখ্যাত ফকিহ Yahya ibn Sharaf al-Nawawi বলেন, এখানে গা লাগানো বলতে হাত দিয়ে স্পর্শ বা শরীরের সাথে শরীর লাগানো বোঝানো হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি আশঙ্কা করে যে—চুমু দিলে সহবাসে গড়াতে পারে, অথবা বীর্যপাত হয়ে যেতে পারে, তাহলে তার জন্য এসব থেকে বিরত থাকা উত্তম, যাতে রোজা নষ্ট না হয়। আলেমদের মত Muhammad ibn Salih al-Uthaymeen বলেন, রোজাদারের চুম্বন দুই ধরনের:

  1. জায়েজ চুম্বন – যা কামনা জাগায় না বা রোজা নষ্ট হওয়ার ভয় নেই।
  2. হারাম চুম্বন – যেটা থেকে রোজা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

একই কথা বলেছেন Abd al-Aziz ibn Baz— রোজা অবস্থায় চুম্বন, আদর-সোহাগ, স্পর্শ করা বৈধ, যতক্ষণ না সহবাস বা বীর্যপাত হয়।

ফরয রোযার কাযা পালনকালে রোযা ভেঙ্গে ফেলার হুকুম কি?

যে ব্যক্তি কোনো ফরয রোযা শুরু করেছে—যেমন

  • রমজানের কাযা রোযা
  • মানতের রোযা
  • শপথ ভঙ্গের কাফ্‌ফারার রোযা

তার জন্য কোনো শরয়ি ওজর (যেমন অসুস্থতা বা সফর) ছাড়া সেই রোযা ভেঙে ফেলা জায়েজ নয়।

ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ভেঙে ফেললে কী হবে?

যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ভেঙে ফেলে তাহলে—

  1. সে গুনাহগার হবে
  2. তাকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
  3. ঐ দিনের বদলে আরেকদিন একটি রোযা কাযা করতে হবে
  4. তবে কাফ্‌ফারা দিতে হবে না

কারণ অধিকাংশ আলেমের মতে কাফ্‌ফারা শুধুমাত্র রমজান মাসের দিনে সহবাসের মাধ্যমে রোযা ভাঙলে ফরয হয়।

আলেমদের মতামত

প্রখ্যাত ফকিহ Ibn Qudamah বলেন:

যে ব্যক্তি কোনো ফরয রোযা শুরু করেছে—যেমন রমজানের কাযা, মানতের রোযা বা কাফ্‌ফারার রোযা—তার জন্য তা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নয়। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ নেই।
আল-মুগনি

ইমাম Yahya ibn Sharaf al-Nawawi বলেন:

রমজান ছাড়া অন্য কোনো রোযা (যেমন কাযা বা মানত) পালনকালে সহবাস করলে কাফ্‌ফারা দিতে হয় না—এটাই অধিকাংশ আলেমের মত।

এছাড়া Abd al-Aziz ibn Baz বলেন: যে ব্যক্তি কাযা রোযা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলেছে, তার উচিত তওবা করা এবং পরে সেই দিনের রোযা কাযা করা।

একইভাবে Muhammad ibn Salih al-Uthaymeen বলেন:
যদি কেউ কাযা রোযা ভেঙে পরে আবার সেই দিনের বদলে একটি রোযা রাখে, তাহলে কাফ্‌ফারা লাগবে না, তবে বিনা কারণে রোযা ভাঙার জন্য তওবা করতে হবে।