লাখো মুসল্লির ঢল, সিলেটের শাহী ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

Eid Prayer Shahi Eidgah Sylhet

লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী Shahi Eidgah ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই নগরীর অলিগলি থেকে মানুষের ঢল নামে ঈদগাহমুখী পথে, আর সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা স্থানেও মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজকে ঘিরে ছিল আনন্দ, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃশ্য।

প্রধান জামাতে ইমামতি করেন Shaykhe Pir Saheb Baruna। জামাতের আগে বয়ান পেশ করেন Hafiz Mawlana Kamal Uddin। বয়ানে তারা ঈদের তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ, দেশবাসীর সুখ-শান্তি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকট থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় মুসল্লিদের অনেককে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

এ বছর সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৯৫৮টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ৩৯৬টি জামাত। নগরীর বিভিন্ন মসজিদের পাশাপাশি একাধিক ঈদগাহ মাঠেও বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২ হাজারের বেশি স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।

সিলেটে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী Khandker Abdul Muktadir, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী Ariful Haque Chowdhury, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক Abdul Qayyum Chowdhuryসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ।

ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্রহণ করা হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে মাঠজুড়ে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

Sylhet Metropolitan Police জানায়, নগরীর প্রতিটি ঈদগাহ ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার ছিল।

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেকেই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দ্রুত বাড়ির পথে রওনা দেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর নতুন পোশাকের ঝলকানিতে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।