ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের জোয়ারে ভাসছে সিলেট। বিশেষ করে স্বচ্ছ জলের সৌন্দর্য আর পাহাড়ের মিতালি উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন।
রোববার থেকে সাদাপাথর, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, বিছনাকান্দি, জাফলং, পান্তুমাই, লালাখালসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও চা-বাগানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। স্বচ্ছ জল, সবুজ প্রকৃতি এবং মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বসে পর্যটকরা উপভোগ করছেন নির্মল পরিবেশ।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের এই মৌসুমে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এতে পর্যটন খাতে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে দেখতে আসা এক পর্যটক জানান, সকালে সিলেটে এসে সাদাপাথর ঘুরে পরিবারের সবাই খুব উপভোগ করেছেন। এরপর মাজার, চা-বাগান ও শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহপরাণ (রহ.) মাজার এলাকাতেও। সারা বছরই এসব স্থানে ভিড় থাকলেও দীর্ঘ ছুটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
রাতারগুল ঘুরে আসা এক পর্যটক বলেন, ঈদের দিন থেকেই পর্যটকরা আসা শুরু করেছেন। নৌকাঘাটে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা রাখা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বনের সৌন্দর্য আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
সাদাপাথর এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, রমজানজুড়ে পর্যটক কম থাকলেও ঈদের দিন থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। পর্যটকদের চাপ বাড়ায় নৌকার সংকটও দেখা দিয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের নেতারা জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে প্রকৃতি নতুন রূপে ফিরেছে। এতে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে এবং এবারের ঈদ মৌসুমে পর্যটন খাত জমে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখা, বিশ্রামাগার, টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
