বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কৃতী সন্তান ডলি বেগম। কানাডার প্রথমবারের মতো দেশটির ফেডারেল সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টি অফ কানাডা-এর প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি, রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল, যা ডলি বেগমের বিজয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। বর্তমানে দলটির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল মার্ক কার্নি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে আইন পাস ও নীতিনির্ধারণে সরকার আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনা করা সহজ হবে।
ডলি বেগম এর আগে অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার, ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে তৃতীয়বার এমপিপি নির্বাচিত হন তিনি। কানাডার তিন স্তরের সরকারের কোনো আইনসভায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট হিসেবেও তিনি পরিচিত।
চলতি বছরের শুরুতে সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের আসন শূন্য হওয়ার পর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পান ডলি বেগম। পরে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ফেডারেল রাজনীতিতে অংশ নেন।
নিজের বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং জাতীয় পর্যায়ে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
ডলি বেগম জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ কানাডা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবেন।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার মনু নদের পাড়ে জন্ম নেওয়া ডলি বেগম ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নবনির্বাচিত এমপি ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার এই বিজয় দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডলি বেগমের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল পর্যায়ে ডলি বেগমের এই পদার্পণ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।
