মালয়েশিয়া ফেরত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি

malaysia returned bangladeshi workers

মালয়েশিয়ায় নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসা শত শত বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক।

সোমবার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা তাদের নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা শ্রমিক আব্দুল্লাহ জানান, মন্ত্রী তাদের সব দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, হাইকমিশনের মাধ্যমে যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে, তাদের মালিকদের ডেকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও ব্ল্যাকলিস্ট সংক্রান্ত বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

এর আগে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় আরেক ভুক্তভোগী শ্রমিক নিরঞ্জন বলেন, ২০২৩ সালে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে তারা মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে ‘মেডিসীরাম’ ও ‘কাওয়াগুছি’ নামের কোম্পানিতে কাজ করলেও তারা নিয়মিত বেতন পাননি। অনেক শ্রমিকের ৫ থেকে ৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে রাখা হয় এবং জোরপূর্বক কাজ করানো হয়। এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে অনেককে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা স্মারকলিপিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, জব্দ করা পাসপোর্ট ফেরত এবং কালো তালিকা বাতিল করে পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ, ভবিষ্যতে শূন্য খরচে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ ব্যবস্থার সংস্কার, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং অভিবাসন নীতি প্রণয়নে শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।