ফ্রান্সে পারিবারিক পুনর্মিলন এখন ‘বিরল’, গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

france-family-reunification

ফ্রান্সে বসবাসরত বিদেশিদের পরিবারের সদস্যদের আনার অন্যতম পথ ‘রগ্রুপমো ফামিলিয়াল’ বা পারিবারিক পুনর্মিলন ক্রমেই কমে আসছে। ফরাসি জাতীয় জনমিতি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ফ্রান্সে ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য প্রতি বছর ইস্যু হওয়া নতুন আবাসিক অনুমতির মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ পারিবারিক পুনর্মিলনের আওতায় দেওয়া হচ্ছে।

২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার রেসিডেন্স পারমিট এই প্রক্রিয়ায় ইস্যু করা হয়েছে। অথচ ২০০০ সালে এই হার ছিল ১১ শতাংশ, যা বর্তমানে অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আবেদনকারীদের মধ্যে ৫১ শতাংশ উত্তর আফ্রিকার মাগরেব অঞ্চল এবং ২৮ শতাংশ সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে আসা। তবে আবেদনকারীদের জাতীয়তার বৈচিত্র্য বেড়েছে; ২০২৩ সালে অন্তত ১১৫টি দেশের নাগরিক এই প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছেন।

ফ্রান্সে প্রায় ৫০ বছর আগে, ১৯৭৬ সালের ২৯ এপ্রিল এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসী শ্রমিকদের পরিবারকে একত্রিত করে সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করা।

তবে এই প্রক্রিয়ার জন্য রয়েছে কঠোর শর্ত। আবেদনকারীদের স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে এবং পরিবারের জন্য উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ১৯৯৯ সালে বাসস্থানের আকার সংক্রান্ত শর্তও যুক্ত করা হয়, যা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০২৩ সালের তথ্যে দেখা গেছে, আবেদনকারীদের ৮১ শতাংশ পুরুষ হলেও সুবিধাভোগীদের বড় অংশ নারী ও শিশু। ফলে এই পথকে পরিবারভিত্তিক আবাসিক অনুমতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারীনির্ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এছাড়া ২০০৩ সালের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের আবাসিক অনুমতির মেয়াদ এক বছরে সীমিত করা হয়েছে, যা নবায়নযোগ্য। ২০০৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, পুনর্মিলনের তিন বছরের মধ্যে দম্পতির বিচ্ছেদ হলে আবাসিক অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময়ও বেড়েছে। ২০২৩ সালে আবেদন জমা থেকে সিদ্ধান্ত পেতে গড়ে ১০ মাস সময় লেগেছে, যা আইনি ছয় মাসের সীমার চেয়ে বেশি। বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে এই সময় ১২ মাসেরও বেশি।

বর্তমান অভিবাসন বাস্তবতায় এই প্রক্রিয়ার প্রাসঙ্গিকতাও কমছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। আগে ধারণা ছিল—একজন ব্যক্তি আগে ফ্রান্সে এসে পরে পরিবারকে নিয়ে আসবেন। কিন্তু এখন অনেকেই শিক্ষার্থী হিসেবে এসে দেশটিতেই পরিবার গড়ে তুলছেন।

ফলে অনেকেই পারিবারিক পুনর্মিলনের পরিবর্তে অন্যান্য অভিবাসন পথ বেছে নিচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে ‘ট্যালেন্ট পাসপোর্ট’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দক্ষ কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সহজে আনার সুযোগ দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, কঠোর অর্থনৈতিক ও আবাসন শর্ত, দীর্ঘ সময়সীমা এবং অভিবাসনের পরিবর্তিত ধারা—এসব কারণেই ফ্রান্সে পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় কম কার্যকর হয়ে পড়ছে।