ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসীদের রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত কনসেই দেতা। আদালত সরকারকে ‘আনেফ’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সব কারিগরি ত্রুটি ঠিক করতে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দেওয়া এ রায়ে বলা হয়েছে, অনলাইনভিত্তিক আনেফ প্ল্যাটফর্ম-এর সমস্যার কারণে বহু অভিবাসী রেসিডেন্স পারমিট বা ‘কার্ত দ্য সেজুর’ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। ফলে তারা চাকরি, বাসস্থান ও সামাজিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং আবেদন ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে একাধিক মানবাধিকার ও সহায়তামূলক সংগঠন আদালতে আবেদন করে অভিযোগ জানায়, এই প্ল্যাটফর্ম বিদেশিদের অধিকার অস্বাভাবিকভাবে সীমিত করছে। আদালতও এ মতের সঙ্গে একমত হয়ে জানায়, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক আবেদনকারী কোনো সাড়া পাচ্ছেন না, যা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
রায়ের পর অভিবাসন সহায়তাকারী সংস্থা লা সিমাদ-এর কর্মকর্তা রিওনন কুয়েরি বলেন, “এটি একটি বড় জয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সেবা কার্যকর করতে বাধ্য করা হবে।” একইভাবে ফেডারেশন অফ সলিডারিটি অ্যাকটর্স রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এতে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ফ্রান্সে রেসিডেন্স পারমিট আবেদন, নবায়ন, ঠিকানা বা পারিবারিক তথ্য পরিবর্তনের সব প্রক্রিয়াই কেবল এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। সরাসরি প্রেফেকচারে গিয়ে আবেদন করার সুযোগ নেই।
তবে প্ল্যাটফর্মটিতে বারবার প্রযুক্তিগত ত্রুটি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং মানবিক সহায়তার অভাব অভিবাসীদের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ফলে অনেকেই সময়মতো পারমিট না পেয়ে কাজ হারাচ্ছেন বা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
আফগানিস্তান থেকে আসা জওয়াদ নামের এক অভিবাসী বলেন, “আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমি নিয়ম মেনে সব করেছি, তবুও কোনো সাড়া পাচ্ছি না।” একইভাবে মরক্কোর মেহেদি জানান, ২০২২ সালে আবেদন করার পরও এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে অভিবাসীদের ‘অ্যাটেস্টেশন অব প্রসেসিং ইনস্ট্রাকশন (এপিআই)’ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা সাময়িকভাবে কাজ ও অন্যান্য অধিকার বজায় রাখতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প হিসেবে সরাসরি সেবা, ফোন বা কাগজপত্র জমার সুযোগ রাখা জরুরি। এতে অভিবাসীদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবার মানও উন্নত হবে।
