সিলেট টেস্টের ভাগ্য গড়াবে পঞ্চম ও শেষ দিনে। রোমাঞ্চে ভরপুর ম্যাচে এখনো জয় সম্ভব দুই দলেরই। বাংলাদেশ যেখানে জয়ের জন্য চাইছে শেষ ৩ উইকেট, সেখানে পাকিস্তানের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। তবে সেই রান তুলতে পারলে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়বে সফরকারীরা।
চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। তাদের লক্ষ্য ৪৩৭ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনি শেষ দিনের বড় ভরসা পাকিস্তানের জন্য। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বপ্ন সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই নিশ্চিত করা।
দিনশেষে ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী কথা বলেছেন দুই দলের কোচিং স্টাফরাও। বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট বলেন, “আমরা জয়ের অপেক্ষায় আছি।” অপরদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, “জিতবো, অবশ্যই আমরা জিতবো। দরকার আর মাত্র ১২১ রান।”
চতুর্থ দিনের শুরুতে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল বিশাল। কিন্তু ব্যাট হাতে দারুণ লড়াই করেছেন অধিনায়ক শান মাসুদ, বাবর আজম, সালমান আগা এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান। বিশেষ করে মাসুদ ও বাবরের ৯২ রানের জুটি সফরকারীদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
শান মাসুদ ৭১ রান করে আউট হন। বাবর আজম খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। এরপর সালমান আগা ও রিজওয়ান গড়েন ১৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। সালমান ৭১ রান করে ফিরলেও রিজওয়ান ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার তাইজুল ইসলাম। নতুন বল হাতে দারুণ স্পেলে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে স্বাগতিকদের এগিয়ে রেখেছেন তিনি। নাহিদ রানা নিয়েছেন ২ উইকেট।
এর আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত ১৩৭ রান এবং লিটন দাসের ৬৯ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৯০ রান। প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছিল টাইগাররা। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৩২ রানে।
এখন সবকিছু নির্ধারণ হবে শেষ দিনের লড়াইয়ে। রিজওয়ান কি পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পথে নিয়ে যেতে পারবেন, নাকি বাংলাদেশের বোলাররা শেষ ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করবে— সেই উত্তরের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৭৮ ও ৩৯০/১০ (জয় ৫২, লিটন ৬৯, মুশফিক ১৩৭, তাইজুল ২২, খুররাম সাজ্জাদ ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)। পাকিস্তান : ২৩২ ও ৩১৬/৭ (৮৬ ওভারে, শান মাসুদ ৭১, বাবর আজম ৪৭, সালমান আগা ৭১, রিজওয়ান ৭৫*, তাইজুল ৪/১১৩, নাহিদ রানা ২/৫৮)।
