বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, হাঙ্গেরিতে বিদেশি কর্মী ভিসা বন্ধের পরিকল্পনা

bangladeshi-migrants-hungary-visa-policy

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে কর্মী আনার জন্য নতুন কর্মভিসা দেওয়া বন্ধের পরিকল্পনা করছে হাঙ্গেরির নতুন সরকার। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশের মতো শ্রম-রপ্তানিকারক দেশগুলোর অভিবাসী কর্মীদের জন্য ইউরোপে কাজের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ইউরোপে কর্মরত ও নতুনভাবে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে Tisza Party-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারে দলটি ঘোষণা দেয়, আগামী মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে আসা কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হবে।

দলটির দাবি, বিদেশি শ্রমিকরা যেন স্থানীয় হাঙ্গেরিয়ানদের চাকরি না নিয়ে নেন এবং মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি না করেন—এই নীতির ভিত্তিতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে এই ঘোষণার পর থেকেই দেশটির ব্যবসায়ী মহল ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, হঠাৎ করে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইতোমধ্যে শ্রমসংকটে থাকা হাঙ্গেরির উৎপাদন ও সেবা খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান Randstad-এর আঞ্চলিক প্রধান স্যান্ডর বাজা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কর্মীদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি বলেন, আগামী এক দশকে হাঙ্গেরির বিপুলসংখ্যক কর্মী অবসরে চলে যাবেন, ফলে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। তার মতে, বর্তমান নীতি অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে নেওয়া জরুরি, নাহলে উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মক চাপে পড়তে পারে।

হাঙ্গেরির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির মোট শ্রমশক্তির মাত্র প্রায় ২ শতাংশ বিদেশি কর্মী। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানি, পোল্যান্ড বা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোর তুলনায় হাঙ্গেরিতে শ্রমঘাটতি বেশি, কারণ ইউক্রেনীয় শরণার্থী প্রবাহ তুলনামূলক কম।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতে, বিশেষ করে উৎপাদন ও সেবা খাত বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। American Chamber of Commerce-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শ্রমিক মোট কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি কর্মী ছাড়া পুরো শিফট বন্ধ করতে হতে পারে, যা উৎপাদন খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে র‌্যান্ডস্টাডের স্যান্ডর বাজা উল্লেখ করেন, ২৫ বছরের নিচে তরুণ, ৫৫ বছরের বেশি বয়সী এবং ছোট শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় চার লাখ সম্ভাব্য কর্মী থাকলেও চলাচল ও কর্মস্থলে যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঘাটতি সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।

জার্মান ব্যবসায়ী চেম্বারের প্রধান রবার্ট কেসটে সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর কর্মী ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে হাঙ্গেরির অর্থনীতি টিকে থাকা কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে, এই ভিসা নীতি কার্যকর হলে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।