পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবার মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ কারণে ট্যানারিগুলোতে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নাও হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন আড়তে চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়েছে।
চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান, ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ট্যানারি মালিকদের সরাসরি চামড়া কেনার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে বাজারে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও জানান, এবার ঈদুল আজহায় বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত গরমের কারণে চামড়া দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে রয়েছে—
- ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু ও মহিষ
- ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল ও ভেড়া
- ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রাণী
অন্যদিকে, দেশে কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় ২২ লাখ বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি সরবরাহ আসে কোরবানির মৌসুমে।
প্রাপ্ত চামড়ার মধ্যে—
- ৬৪.৮৩ শতাংশ গরুর
- ৩১.৮২ শতাংশ ছাগলের
- ২.২৫ শতাংশ মহিষের
- ১.২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চামড়া যেন নষ্ট না হয় এবং দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, সেজন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ সংশ্লিষ্টদের চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে তদারকি। বিভাগীয় কমিশনারদের অধীনে বিশেষ মনিটরিং টিমও গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
