ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করলো প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে ফরাসি জায়ান্টরা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় থাকায় শিরোপা নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে বেশি স্নায়ুচাপ সামলে জয় তুলে নেয় পিএসজি।
ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের স্বপ্নময়। খেলার প্রথমার্ধে মার্কিনহোসের একটি ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যান জার্মান মিডফিল্ডার। পরে দুরূহ কোণ থেকে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়াতে থাকে পিএসজি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে আর্সেনালের রক্ষণভাগ। পেনাল্টি বক্সে খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় পিএসজি।
পেনাল্টি থেকে উসমান দেম্বেলে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে পিএসজির হয়ে সফলভাবে গোল করেন গন্সালো রামোস, আশরাফ হাকিমি, লুকাস বেরালদি ও আরও একজন শুটার। আর্সেনালের হয়ে গোল করেন ভিক্টর গিওকেরেস, ডেকলান রাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি।
তবে এবেরেচি এজের শট পোস্টের বাইরে চলে যায় এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে শিরোপা নিশ্চিত হয় পিএসজির।
গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়া পিএসজি এবার সেই শিরোপা ধরে রেখে ইতিহাস গড়েছে। ১৯৯২ সালে প্রতিযোগিতাটির নাম পরিবর্তনের পর ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার শিরোপা জেতা রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হলো ফরাসি ক্লাবটি।
অন্যদিকে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়া আর্সেনালের জন্য ইউরোপীয় মঞ্চে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। ২০০৬ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে উঠেও শিরোপার স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিকেল আর্তেতার দলকে। (Source: OPTA)
