অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স চুক্তির মেয়াদ বাড়ল

irregular migration Europe

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে চালু থাকা ‘ওয়ান-ইন, ওয়ান-আউট’ কর্মসূচির মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চালু থাকবে।

ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী এমমানুয়েল হাদ্দাদ বুধবার দেশটির পার্লামেন্টারি কমিটিকে এ তথ্য জানান।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় যেসব অভিবাসী অবৈধভাবে ফ্রান্স হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন এবং যাদের সেখানে বৈধভাবে থাকার সুযোগ নেই, তাদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়।

বিনিময়ে ফ্রান্সে অবস্থানরত এমন একজন বিদেশি নাগরিককে গ্রহণ করে যুক্তরাজ্য, যার আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং যার পারিবারিক বা মানবিক কারণে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।

দুই দেশের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্রগুলোর ব্যবসা দুর্বল করা সম্ভব হবে। কারণ, অভিবাসীরা যদি জানেন যে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছালেও তাদের ফেরত পাঠানো হতে পারে, তাহলে তারা মানবপাচারকারীদের কাছে অর্থ ব্যয় করতে নিরুৎসাহিত হবেন।

প্রতিবছর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে ছোট নৌকা ও ডিঙ্গিতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বহু অভিবাসীর মৃত্যু হয়। মানবপাচারকারী চক্রগুলো বিপজ্জনক এসব যাত্রার জন্য অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করে থাকে।

ফরাসি মন্ত্রী হাদ্দাদ জানান, চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্য থেকে ৬০৬ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিপরীতে ফ্রান্স থেকে ৫৮৮ জনকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে এই সংখ্যা সামগ্রিক অভিবাসন প্রবাহের তুলনায় খুবই সীমিত। কারণ, গত বছরই ছোট নৌকায় করে ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসী অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।

২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশটি আর ডাবলিন রেগুলেশনের আওতায় নেই। আগে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো অভিবাসী যে ইউরোপীয় দেশে প্রথম প্রবেশ করতেন, তাকে সেই দেশে ফেরত পাঠানো যেত। ব্রেক্সিটের পর সেই সুযোগ হারিয়েছে যুক্তরাজ্য।

ফলে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশকারী অনেক অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে পৃথক চুক্তি করছে লন্ডন।

ফ্রান্স একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, ইংলিশ চ্যানেল হয়ে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো শুধু ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব নয়; এটি পুরো ইউরোপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।