শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ

ramisa-murder-case

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ (রোববার) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই মামলাটি মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রমের শেষ ধাপে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত, চার্জশিট, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ—সবকিছুই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

দ্রুতগতিতে এগিয়েছে বিচার কার্যক্রম

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ঘটনা। পরদিন ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। একই দিন মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু সাক্ষীদের জবানবন্দি তুলে ধরে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ প্রধান আসামি সোহেল রানার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে শাস্তি প্রার্থনা করেন।

যেভাবে ঘটেছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড

মামলার তথ্য অনুযায়ী, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে স্বপ্নার কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, রামিসার সঙ্গে যা ঘটেছে তা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে অনেক সাক্ষী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চায়। দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে সরকারের আন্তরিকতা ছিল। আমরা আশা করছি, আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।” আজকের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে নিহত শিশুর পরিবারসহ পুরো দেশ।