মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ জুন দুদিনের সরকারি সফরে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। সফরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চীন সফরে যাবেন। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তাঁর বেইজিং সফরের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া সরকারের কৌশলগত কূটনৈতিক ভারসাম্যেরই অংশ।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা। বর্তমানে সাত লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন এবং তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিগত সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগেও এই বাজার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। এ লক্ষ্যে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য খুলে যেতে পারে। যদিও নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জনশক্তি রপ্তানিকারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে অতীতের সিন্ডিকেটভিত্তিক পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পুরোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, কৃষি, হালাল খাদ্য শিল্প, রোহিঙ্গা সংকট, আসিয়ান সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও আলোচনা হতে পারে।
মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু, কলিং ভিসা কার্যক্রম শুরু এবং অনিয়মিত বা অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধতা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারই করবে না, বরং বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথও সুগম করতে পারে।
