শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। তবে নাথান এলিসের করা ১৯তম ওভার থেকে আসে মাত্র ১১ রান। ফলে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রানের। অ্যারন হার্ডির শেষ ওভারে তাওহিদ হৃদয় ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন দুই বাউন্ডারিতে ১৫ রান তুললেও জয় আর ধরা দেয়নি। ৭ রানের হার দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৮ রান। তবে ১৫ বলে ৩০ রান করে ম্যাট রেনশোর হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তামিম।
এরপর তিন নম্বরে নেমে ৯ বলে ১৫ রান করে ফেরেন সৌম্য সরকার। তবে পারভেজ হোসেন ইমনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও দলকে এগিয়ে নেন সাইফ হাসান। ২২ বলে ৩৬ রান করে ইমন আউট হলে কিছুক্ষণ পর ৪২ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাইফও।
মিডল অর্ডারে শামিম হোসেন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন প্রত্যাশা অনুযায়ী রান তুলতে না পারায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর ৩৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। আগের ম্যাচের মতো এবারও দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন জশ ইংলিস। কিন্তু ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নাসুম আহমেদের শিকার হন তিনি। ৬ বলে ১১ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এই ওপেনার।
পরের ওভারেই টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে উইকেটের দেখা পান নাহিদ রানা। ১ রান করা কুপার কনোলিকে স্লিপে সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরান এই গতিতারকা পেসার।
৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন ম্যাট রেনশো ও টিম ডেভিড। দুজনের ৯৭ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় সফরকারীরা। ৪৫ রান করা টিম ডেভিডকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তবে অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে ১৯৬ রানে পৌঁছে দেন রেনশো।
বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। এছাড়া নাহিদ রানা, আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও মুস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
শেষদিকে রোমাঞ্চ ছড়ালেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
