দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন—তিন স্তরেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই দাম চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি জানায়, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ইউনিটপ্রতি কত বাড়ল?
বিইআরসির নতুন আদেশ অনুযায়ী—
- পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে।
- খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে।
- সঞ্চালন খরচ ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন স্লাবের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি করে নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, “কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয় কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে কোনো অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন মূল্যায়ন করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে পাইকারি দর বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সে হিসাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সা।
অন্যদিকে বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালন সংস্থা পিজিসিবি সঞ্চালন চার্জ আরও বেশি বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, কৃষি ও সেবা খাতেও ব্যয় বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।
বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
আগেরবার কবে বাড়ানো হয়েছিল?
সবশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। একই সময়ে পাইকারি বিদ্যুতের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।
নতুন ঘোষণার ফলে দুই বছরের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হলেন দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।
