সুযোগ নষ্টের মাশুল পোল্যান্ডের, বাশিচের পেনাল্টিতে জয় বসনিয়ার

bosnia-vs-poland

বল দখল, আক্রমণ কিংবা গোলের সুযোগ—সবই বেশি ছিল পোল্যান্ডের। কিন্তু গোলটাই করতে পারেনি তারা। সেই ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে শেষ দিকে ইভান বাশিচের পেনাল্টিতে পোল্যান্ডকে ১–০ গোলে হারিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ঘরের মাঠে চাপ সামলে রক্ষণে দৃঢ় থাকা স্বাগতিকেরা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় তুলে নিয়েছে।

শুরুতে প্রতিপক্ষের অর্ধে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ গড়ছিল পোল্যান্ড। তাদের চাপে বসনিয়ার ৪–৪–২ ছকের রক্ষণ অনেকটাই নিচে নেমে যায়। প্রথমার্ধে পোল্যান্ডের ১০ শটের বিপরীতে বসনিয়ার শট ছিল পাঁচটি। তবে দুটি বড় সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা।

প্রথমার্ধের প্রত্যাশিত গোলের হিসাবও পোল্যান্ডের আধিপত্যের কথা বলছে। তাদের এক্সজি ছিল ১.১৭, বসনিয়ার ০.৩৩। কিন্তু বিরতির আগে সেই এগিয়ে থাকা স্কোরলাইনে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি পোলিশরা।

বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র

দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষের অর্ধে উপস্থিতি বাড়ায় বসনিয়া। অন্যদিকে ৬৩ মিনিটে চোট পেয়ে ম্যাটি ক্যাশ মাঠ ছাড়লে ডান প্রান্তে পোল্যান্ডের আক্রমণের গতি কিছুটা কমে যায়। মাঠ ছাড়ার আগপর্যন্ত রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর ছিলেন ক্যাশ।

স্বাগতিকদের ধৈর্যের পুরস্কার আসে শেষ দিকে। বদলি নামা ইয়োভো লুকিচ পেনাল্টি আদায় করেন। স্পটকিক থেকে বাঁ পায়ের শটে জালের ওপরের দিকে বল পাঠিয়ে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন বাশিচ। পোল্যান্ড আর সেই গোল শোধ করতে পারেনি।

দুই অর্ধের সুযোগ তৈরির হিসাবেও ম্যাচের পরিবর্তন স্পষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ার এক্সজি বেড়ে হয় ০.৮৮, পোল্যান্ডের ছিল ০.৪০। শুরুর চাপ কাটিয়ে স্বাগতিকেরা তুলনামূলক ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল ম্যাচের শেষ ভাগে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে দুই দলের তিনজন করে ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেন। দ্বিতীয়ার্ধে সাত মিনিট যোগ করা সময়েও নিজেদের লিড ধরে রাখে বসনিয়া।

বসনিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দেয় রক্ষণ

পোল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখেন বসনিয়ার দুই সেন্টারব্যাক তারিক মুহারেমোভিচ ও নিকোলা কাতিচ। মুহারেমোভিচ ১৩ বার বিপজ্জনক এলাকা থেকে বল সরিয়ে দেন। কাতিচের ছিল ছয়টি ক্লিয়ারেন্স ও তিনটি ব্লক।

গোলরক্ষক মার্টিন জ্লোমিসলিচও আস্থার প্রতিদান দেন। তিনটি সেভ করেন তিনি, যার একটি ছিল বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শটে। পোল্যান্ড আটটি কর্নার পেলেও বসনিয়ার রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি।

দল হিসেবে বসনিয়া ৩৪টি ক্লিয়ারেন্স ও ১২টি ইন্টারসেপশন করে। পোল্যান্ডের ক্ষেত্রে সংখ্যা দুটি ছিল যথাক্রমে ২৫ ও সাত। চাপের মুখে বারবার আক্রমণ থামিয়ে দেওয়াই স্বাগতিকদের ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

পোল্যান্ডের আক্ষেপ শেষ ছোঁয়ায়

মাঝমাঠে পিওতর জিলিনস্কি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পাস দিয়ে সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। কারোল সুইদেরস্কিও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন, কিন্তু একটি বড় সুযোগ নষ্ট করেন। প্রজেমিস্লাভ ফ্রাঙ্কোভস্কি নেন চারটি শট।

সব মিলিয়ে পোল্যান্ডের ১৮টি শটের বিপরীতে বসনিয়ার শট ছিল নয়টি। প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শেও এগিয়ে ছিল সফরকারীরা—২৭ বার। বসনিয়ার ক্ষেত্রে তা ২২। এত কিছুর পরও গোলের সামনে কার্যকারিতার অভাবেই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে পোল্যান্ডকে।

পরিসংখ্যানবসনিয়া ও হার্জেগোভিনাপোল্যান্ড
গোল১০
বল দখল৪৫%৫৫%
মোট শট৯১৮
কর্নার২৮
মোট পাস৩৫৯৪৪২
প্রত্যাশিত গোল—এক্সজি১.২১১.৫৭
প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শ২২২৭
ক্লিয়ারেন্স৩৪২৫
ইন্টারসেপশন১২৭
হলুদ কার্ড৩৩

গোলের বাইরেও উজ্জ্বল বাশিচ

ম্যাচ জেতানো পেনাল্টির পাশাপাশি মাঝমাঠেও বড় অবদান রাখেন বাশিচ। তাঁর ৬৫টি পাসের ৫৮টিই সতীর্থের কাছে পৌঁছায়। আটবার বল পুনরুদ্ধার, তিনটি ইন্টারসেপশন ও চারটি ক্লিয়ারেন্স করেন তিনি।

সরবরাহ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোফাস্কোরে ম্যাচের সর্বোচ্চ ৮.০ রেটিং পেয়েছেন বাশিচ। কাতিচ ও জ্লোমিসলিচের রেটিং ছিল ৭.৯, মুহারেমোভিচের ৭.৮।

আরও পড়ুন: আজ টিভিতে যত খেলা—সময় ও সম্প্রচারের সূচি।