ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে ফ্রান্সে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার কিছুটা ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ক্ষোভ থামেনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়কর্মী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তারা সরকারের নতুন নীতিকে বৈষম্যমূলক ও বিদেশিবিদ্বেষী বলে আখ্যা দেন।
ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্ত জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বাড়তি ফি থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। আগে এই সীমা ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব ছিল।
সরকারের “চুজ ফ্রান্স ফর হায়ার এডুকেশন” পরিকল্পনার আওতায় ২০১৯ সালে চালু হওয়া পৃথক ফি কাঠামো এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এতদিন অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি এই নীতি কার্যকর করেনি।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর পর্যায়ে বছরে ২ হাজার ৮৯৫ ইউরো এবং মাস্টার্স পর্যায়ে ৩ হাজার ৯৪১ ইউরো টিউশন ফি দিতে হবে। বর্তমানে ব্যাচেলর পর্যায়ে এই ফি ১৭৮ ইউরো এবং মাস্টার্সে ২৫৪ ইউরো।
সরকারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিকভাবে ফরাসি ডিগ্রির মূল্য বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে সক্ষম ও “উচ্চ সম্ভাবনাময়” শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করাও এর উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ফি নির্ধারণ সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করবে। প্যারিসের লাতিন কোয়ার্টারে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো “এক বিশ্ববিদ্যালয়, এক অধিকার” এবং “বিদেশিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে।
আলজেরিয়ার শিক্ষার্থী বুসাদ বলেন, “ফ্রান্স অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী হারাবে। দেশটি আর আগের মতো আকর্ষণীয় থাকবে না।” তিনি জানান, বাড়তি ফি এড়াতে বিকল্প হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবছেন।
মালির শিক্ষার্থী কানুতে বলেন, “আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, ব্যবস্থার সুযোগ নিতে নয়।” তিনি সরকারের এই নীতিকে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেন।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্ত অবশ্য পার্লামেন্টে বলেছেন, নতুন ফি এখনো শিক্ষার প্রকৃত ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। তার ভাষায়, “প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্র এখনো প্রায় আট হাজার ইউরো ব্যয় বহন করছে।”
সরকার জানিয়েছে, ধাপে ধাপে নতুন নীতি কার্যকর করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীকে ফি ছাড় দিতে পারবে, যা ২০২৭ সালে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।
