ফ্রান্সে অনিয়মিত বিদেশিদের আটক সময় বাড়ানোর বিল পাস, উদ্বেগ অভিবাসীদের মধ্যে

france-immigration-detention-center-law

ফ্রান্স -এ অনিয়মিত অবস্থায় থাকা এবং ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখার সময়সীমা বাড়ানোর একটি বিল অনুমোদন করেছে দেশটির সিনেট। এর আগে বিলটি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতেও পাস হয়েছিল।

নতুন এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে অভিবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফরাসি সিনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলটি অনুমোদিত হয়। তবে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও সিনেটে পাস হওয়া সংস্করণের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য একটি যৌথ কমিশন গঠন করা হবে।

নতুন প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ফরাসি ভূখণ্ড ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া এবং জননিরাপত্তার জন্য “বাস্তব, বর্তমান ও গুরুতর” হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র বা সিআরএতে সর্বোচ্চ সাত মাস অর্থাৎ ২১০ দিন পর্যন্ত আটক রাখা যাবে।

বর্তমানে ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন। আর সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট মামলায় দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৮০ দিন। নতুন আইনে সেটিও বাড়িয়ে ২১০ দিন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে কোন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশিরা এই কঠোর বিধানের আওতায় পড়বেন, তা নিয়ে ফরাসি পার্লামেন্টের দুই কক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

সরকার ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা চান, হামলার মতো অপরাধে অন্তত তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিদেশিদের এই আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে সিনেট গুরুতর অপরাধ এবং কমপক্ষে পাঁচ বছরের সাজাযোগ্য অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Laurent Nunez বলেছেন, ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সে ৩৪টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে এবং এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। তাই এই আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিনেট আরও একটি নতুন বিধান যুক্ত করেছে, যাতে একই ব্যক্তিকে বারবার প্রশাসনিক আটকে রাখার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ ক্ষেত্রে এটি ৩৬০ দিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ৫৪০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

বিলে উগ্রপন্থি আচরণগত সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য মনোরোগ পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই বিলকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনাও বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি অতিরিক্ত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক এবং অভিবাসীদের অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তে মুক্তি পেয়েছেন।

সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রগুলো এখন বহিষ্কারের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি আটকের স্থানে পরিণত হচ্ছে। তাদের ভাষায়, “যত বেশি সময় আটক রাখা হয়, বহিষ্কার কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যায়।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রবণতার অংশ হিসেবেই ফ্রান্স এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের ওপর নজরদারি ও চাপ আরও বাড়তে পারে।