পবিত্র হজ -এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব পালনের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। জিলহজ মাসের নবম দিনের পবিত্র ভোরে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।
হাজীরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, তাওবা-ইস্তিগফার এবং মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় মশগুল থাকবেন। ইসলামী শরিয়তে এই অবস্থান বা ‘উকুফে আরাফা’ হজের প্রধানতম ফরজ ও মূল রুকন হিসেবে বিবেচিত। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “আল-হাজ্জু আরাফাহ”— অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল বিষয়।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আরাফার দিন বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পবিত্র একটি দিন। এদিন মহান আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করেন এবং রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, ১০ হিজরিতে বিদায় হজের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই আরাফাতের ময়দানেই ঐতিহাসিক বিদায়ী ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানুষের জীবন-সম্পদের মর্যাদা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
আজ দুপুরে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের বিশেষ খুতবা প্রদান করা হয়। খুতবা শেষে হাজীরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে এবং কসর করে আদায় করেন।
দিনভর হাজীদের তালবিয়া, তাকবির ও কান্নাভেজা দোয়ায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। লাখো হাজী ঐতিহাসিক ‘জাবালে রহমত’-এর পাদদেশে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মোনাজাত করেন।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আরাফাতের ময়দানেই আদি পিতা আদম (আঃ) আদি মাতা হযরত হাওয়া (আঃ) পৃথিবীতে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পুনর্মিলিত হয়েছিলেন এবং মহান আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেছিলেন।
এর আগে হাজীরা মিনায় তাঁবুর শহরে ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন ও রাতযাপন শেষে সুশৃঙ্খলভাবে আরাফাতে পৌঁছান। হাজীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে হাজীদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় । আজ আরাফাতের ময়দানে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এরপরও তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজীরা পরম ভক্তি ও আবেগে হজের রুকন পালন করছেন।
সূর্যাস্তের পর হাজীরা মুজদালিফা-এর উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন এবং মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করবেন। আগামীকাল ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে পশু কোরবানি ও শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন হাজীরা।
