নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা সাতদিনের তাপপ্রবাহ শেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে তীব্র বজ্রপাত ও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি।
গত রোববার কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে জনমনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গভীর মেঘমালা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের নৌবন্দরগুলোতে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রোদ-মেঘের খেলা দেখা গেলেও দুপুরের পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর থেকেই বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হয় এবং বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে থাকে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। এছাড়া নেত্রকোনা, কুমিল্লা, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও রাঙামাটিতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এ সময়ে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় কম। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে, যা একদিনের ব্যবধানে প্রায় ৫ ডিগ্রি কমেছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আপাতত তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। তবে ঝড় ও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
