চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির।
সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্পখাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ ট্যানারি শিল্প থেকে উৎপন্ন উচ্চমাত্রার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় কারখানা স্থাপন জরুরি। তবে স্থানান্তর কার্যক্রমটি ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ, যার ফলে খাতটি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, স্থানান্তর প্রক্রিয়ার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং খাতটি মাঝপথে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
চামড়া শিল্পনগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিচালনা ও উন্নয়নে ইতালিকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সিইটিপির দৈনিক বর্জ্য শোধন সক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার। কিন্তু পিক সিজনে ট্যানারি শিল্প থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রথমত, সিইটিপিকে তার পরিকল্পিত সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং দ্বিতীয়ত, ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন। পাশাপাশি ঋণ সংকটে থাকা ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কাজ চলছে।
পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী শিল্পনগরীর বিভিন্ন ট্যানারি কারখানা ঘুরে দেখেন এবং মালিকদের সঙ্গে উৎপাদন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
