পর্তুগালে বসবাসরত হাজারো অভিবাসীর জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা AIMA । সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিকের রেসিডেন্সি নবায়ন বা বৈধকরণ আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই।
AIMA জানিয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল প্রশাসনিক মেয়াদ বৃদ্ধির সর্বশেষ সময়সীমা শেষ হলেও যাদের নতুন রেসিডেন্সি কার্ড এখনও ইস্যু হয়নি, তারা AIMA-এর অনলাইন পোর্টাল থেকে পাওয়া ডিজিটাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে নিজেদের বৈধ অবস্থান প্রমাণ করতে পারবেন।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “যেসব বিদেশি নাগরিকের রেসিডেন্সি নবায়ন বা বৈধকরণ আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, তাদের অবস্থান কোনোভাবেই অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে না।”
AIMA জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে বিভিন্ন ডিক্রি আইনের মাধ্যমে রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হচ্ছিল। তবে বর্তমান সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।
সংস্থার তথ্যমতে, জুন ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া রেসিডেন্সি নবায়ন কার্যক্রমে প্রায় এক লাখ আবেদনকারীর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ হাজার আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত আবেদনগুলোর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ আবেদনকারী ইতোমধ্যে নতুন রেসিডেন্সি কার্ড হাতে পেয়েছেন। বাকি আবেদনকারীরা AIMA-এর পোর্টাল থেকে অনুমোদনের সনদ সংগ্রহ করে বৈধভাবে পর্তুগালে অবস্থান করতে পারবেন।
CPLP ও অন্যান্য আবেদনকারীদের জন্যও একই সুবিধা
AIMA আরও জানিয়েছে, CPLP (Community of Portuguese Language Countries), Expression of Interest (MI) এবং Transitional Scheme-এর আওতায় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
যাদের আবেদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তারা আবেদন চলমান থাকার প্রমাণপত্র (Proof of Application Status) অথবা অনুমোদনের সনদ (Proof of Approval) প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন।
তবে অভিবাসীদের বড় উদ্বেগের জায়গা এখনও বিদেশ ভ্রমণ। কারণ AIMA-এর দেওয়া ডিজিটাল সার্টিফিকেট অন্যান্য দেশের কর্তৃপক্ষ স্বীকৃতি দেয় না। ফলে অনেক আবেদনকারী পর্তুগালের বাইরে যেতে পারছেন না।
এ কারণে বহু অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।
লিসবনের ব্রাজিলিয়ান অভিবাসীদের বৃহত্তম সংগঠন ‘কাসা দো ব্রাজিল’-এর সভাপতি আনা পাওলা কস্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রেসিডেন্সি অনুমোদনের পরও কার্ড হাতে পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
তিনি বলেন, “সরকার কিছুটা গতি আনার চেষ্টা করছে, তবে এখনও অনেক আবেদনকারী অস্বাভাবিক বিলম্বের মুখোমুখি হচ্ছেন।”
এদিকে প্রতিবেশী স্পেন সম্প্রতি পাঁচ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় তারা সরাসরি বসবাসের অনুমতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
স্পেনের এই সিদ্ধান্তের পর পর্তুগালের অভিবাসী সমাজেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পর্তুগালেও অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে।
সূত্র: LUSA, Euronews, BBC
