পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা AIMA-এর কার্যালয়ের সামনে তীব্র বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম SIC Notícias জানিয়েছে, প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে—শত শত মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা সেবা পাচ্ছেন না। অনেকের অভিযোগ, হাজার হাজার আবেদন জমা থাকলেও সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
বিশেষ করে Anjos এলাকায় AIMA কার্যালয়ের সামনে শত শত অভিবাসী রাত কাটাচ্ছেন, শুধু পরদিন সেবা পাওয়ার আশায়। লাইনের দৈর্ঘ্য আশপাশের সড়ক পেরিয়ে Avenida Almirante Reis পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, যা স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় এক ফুল ব্যবসায়ী ইসিলদা মার্টিন্স বলেন, “এটি এক ধরনের কেলেঙ্কারি—যারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের জন্য যেমন কষ্টকর, তেমনি প্রতিদিন এ পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
সরকার দাবি করলেও যে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, বাস্তবে তা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ২৮ জন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
বর্তমানে AIMA-তে ঠিক কতসংখ্যক আবেদন ঝুলে আছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে জানা গেছে, মাত্র দুই মাস আগেও লিসবনের প্রশাসনিক আদালতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। নতুন করে আরও হাজার হাজার আবেদন সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অভিবাসন ব্যবস্থায় এই অচলাবস্থা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
