প্রবাসীদের জন্য সুখবর – পর্তুগালসহ ১৭ দেশে সিঙ্গেল পারমিটের নতুন নিয়ম

portugal-single-permit-directive-european-commissio

পর্তুগালসহ ১৭ দেশে সিঙ্গেল পারমিট বাস্তবায়নে ইউরোপীয় কমিশনের আইনি পদক্ষেপ

পর্তুগালসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ১৭টি সদস্য দেশের বিরুদ্ধে নতুন ‘সিঙ্গেল পারমিট ডাইরেক্টিভ’ বাস্তবায়ন না করায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন আইন জাতীয় আইনে বাস্তবায়নের তথ্য কমিশনকে না জানানোয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের জুলাই ২০২৬-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, Directive (EU) 2024/1233 বাস্তবায়নের বিষয়ে বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, সাইপ্রাস, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, হাঙ্গেরি, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কী এই সিঙ্গেল পারমিট ডাইরেক্টিভ?

ইইউর নতুন সিঙ্গেল পারমিট ডাইরেক্টিভের লক্ষ্য হলো ইউরোপে কাজ ও বসবাসের অনুমতির প্রক্রিয়া সহজ করা। নতুন ব্যবস্থায় তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য কাজের অনুমতি ও রেসিডেন্স পারমিট একসঙ্গে পাওয়ার জন্য একটি একক আবেদন প্রক্রিয়া থাকবে।

Directive (EU) 2024/1233 ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও কাউন্সিল ২৪ এপ্রিল ২০২৪ সালে গ্রহণ করে। নির্দেশনাটিতে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য একটি একক আবেদন প্রক্রিয়া এবং কাজ ও বসবাসের অধিকার সমন্বিত একটি ‘সিঙ্গেল পারমিট’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৯০ দিনের মধ্যে আবেদনের সিদ্ধান্ত

নতুন নির্দেশনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—সিঙ্গেল পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা কমিয়ে সাধারণভাবে ৯০ দিন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ রেসিডেন্স পারমিট থাকা কিছু তৃতীয় দেশের নাগরিককে নিজ দেশে ফিরে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের ভেতর থেকেই সিঙ্গেল পারমিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কর্মীদের অধিকারও জোরদার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে একজন কর্মী নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করতে পারবেন এবং কর্মীদের শোষণ থেকে সুরক্ষার জন্য সদস্য দেশগুলোকে নজরদারি, অভিযোগের ব্যবস্থা ও আইনি প্রতিকারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

২১ মে ছিল বাস্তবায়নের সময়সীমা

ইইউ সদস্য দেশগুলোর নতুন নির্দেশনাটি জাতীয় আইনে বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২১ মে ২০২৬। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারি আইনভান্ডার EUR-Lex-এও এই সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু ১৭টি দেশ ওই সময়সীমার মধ্যে নির্দেশনাটির পূর্ণ বাস্তবায়নসংক্রান্ত জাতীয় আইন বা ব্যবস্থা ইউরোপীয় কমিশনকে জানায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ‘letter of formal notice’ পাঠিয়েছে।

পর্তুগালের জন্য কী অর্থ?

পর্তুগাল এই ১৭টি দেশের একটি। তবে কমিশনের নোটিশের অর্থ এই নয় যে পর্তুগালে থাকা বা পর্তুগালে যেতে ইচ্ছুক সব বিদেশি নাগরিক এখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত রেসিডেন্স বা ওয়ার্ক পারমিট পাবেন।

এটি মূলত পর্তুগালসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নতুন ইইউ নির্দেশনা জাতীয় আইনে বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেওয়ার একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ

কমিশনের নোটিশ পাওয়ার পর দেশগুলোর হাতে দুই মাস সময় রয়েছে জবাব দেওয়ার এবং নির্দেশনাটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জাতীয় ব্যবস্থা কমিশনকে জানানোর জন্য। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে ইউরোপীয় কমিশন পরবর্তী ধাপে ‘reasoned opinion’ দিতে পারে।

প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নতুন সিঙ্গেল পারমিট ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ইউরোপে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়া তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কাজ ও বসবাসের অনুমতির জন্য আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কমানো এবং আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

তবে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশে বাস্তবায়নের অবস্থা আলাদা হতে পারে। তাই নতুন নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

ইউরোপীয় কমিশনও জানিয়েছে, নতুন সিঙ্গেল পারমিটের নিয়ম তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ইউরোপে বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের আবেদন সহজ করার পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদার করবে।

সূত্র: ইউরোপীয় কমিশন