ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, টপু বর্মনের জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল লাল-সবুজ

Image Name bangladesh-historic-win-vs-san-marino-europe

বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় এক দিন উপহার দিল জাতীয় দল। ইউরোপের মাটিতে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় বাংলাদেশকে। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে অধিনায়ক টপু বর্মনের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডিফেন্সিভ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলকে এগিয়ে দেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩০তম মিনিটে সান মারিনোর হয়ে সমতাসূচক গোল করেন নিকোলাস জিয়াকোপেত্তি। তার গোলে ম্যাচে ফিরে আসে স্বাগতিকরা এবং প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের লক্ষ্যে আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই নায়ক হয়ে আবির্ভূত হন টপু বর্মন। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়সূচক গোলটি করে বাংলাদেশকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়।

এই ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচ। দায়িত্ব নিয়েই জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলেন সাবেক জার্মান-আমেরিকান এই কোচ। তার অধীনে দলের সংগঠিত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বসিত সমর্থনও ছিল চোখে পড়ার মতো। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে এসে জাতীয় দলের পাশে দাঁড়ান তারা। ম্যাচজুড়ে গ্যালারিতে উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা, শোনা গেছে বাংলাদেশ-বাংলাদেশ ধ্বনি।

বাংলাদেশে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করে টি স্পোর্টস। ফলে দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও ঘরে বসেই উপভোগ করেন জাতীয় দলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই জয় বাংলাদেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। নতুন কোচের অধীনে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ফুলটাইম:
সান মারিনো ১-২ বাংলাদেশ

গোলদাতা:
বাংলাদেশ – টপু বর্মন (১৮’, ৮৫’)
সান মারিনো – নিকোলাস জিয়াকোপেত্তি (৩০’)