শরিফুলের ৬ উইকেটও যথেষ্ট নয়, কনোলির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ স্বপ্ন ভাঙল

bangladesh-vs-australia-3rd-odi-cooper-connolly

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও অস্ট্রেলিয়াকে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পরও ২২ বছর বয়সী কুপার কনোলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। ফলে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল টাইগারদের।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে। দলের হয়ে তাওহীদ হৃদয় ৮৩ রান, লিটন দাস অপরাজিত ৫৮ রান এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অপরাজিত ৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে লিটন ও হৃদয়ের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত এনে দেয়। পরে মোসাদ্দেকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা।

২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেন এই বাঁহাতি পেসার।

এরপর তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে বাংলাদেশ। কিন্তু কুপার কনোলি একপ্রান্ত আগলে রেখে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে এগিয়ে নিতে থাকেন।

মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি গড়ার পর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গেও কার্যকর পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন কনোলি। মাত্র ৮৭ বলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই তরুণ ব্যাটার।

কনোলি শেষ পর্যন্ত ১৪৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দেন। তার ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছক্কার মার।

শেষদিকে আবারও ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে আউট করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরে আরও একটি উইকেট নিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন।

তবে অন্য বোলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ৬ উইকেট নেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে শেষ হাসি হাসলেও পুরো সিরিজজুড়ে বাংলাদেশ দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিয়েছে। অন্যদিকে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং ভবিষ্যতের জন্য টাইগারদের বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকল।