যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা, বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম

Oil prices world market

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে পতন দেখা গেছে। সম্ভাব্য চুক্তি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ফলে মঙ্গলবার তেলের বাজারে এই দরপতন ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭৫ সেন্ট কমে ৯৪ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৫ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৩১ ডলারে।

এর আগে মাত্র একদিন আগেই দুই ধরনের তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি বিস্তৃত চুক্তির আশাবাদ এবং যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বাজারে নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানি বাড়তে পারে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে।

তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৬ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াঙ্কা সাচদেভা বলেন, “সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার আশা করা হলেও এখন পর্যন্ত তেলের বাজারে দৃশ্যমান কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি, বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।