ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ফেরত নীতিমালা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। নতুন নিয়মের ফলে ইইউভুক্ত দেশগুলো অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের আটক রাখার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা পাবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে তৃতীয় দেশে ফেরতকেন্দ্র বা “রিটার্ন হাব” তৈরির পথও খুলে যাবে।
শনিবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান বলেন, এই নীতিমালা গ্রহণের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। তার মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনার নামে মানবাধিকার সুরক্ষাকে দুর্বল করা হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট চলতি সপ্তাহে নতুন রিটার্ন রেগুলেশন অনুমোদন করে। এর লক্ষ্য হলো অনিয়মিত অভিবাসী ও প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নিয়ম অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় আটক রাখা, পরিবার বিচ্ছিন্নতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, কোনো রাষ্ট্র মানবাধিকার সংক্রান্ত নিজের দায়বদ্ধতা অন্য কোনো দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। বিশেষ করে শিশু, পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষের ক্ষেত্রে আটক ও ফেরত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং শরণার্থী আইন স্পষ্টভাবে বলে—কাউকে এমন জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তার গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন বা অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। এই নীতি “নন-রিফাউলমেন্ট” নামে পরিচিত এবং সব পরিস্থিতিতেই তা মেনে চলতে হবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের সময় মানবিক মর্যাদা, পরিবারিক ঐক্য, ব্যক্তিগত জীবন এবং শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত যেন প্রতিটি ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে নেওয়া হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তুর্ক আরও বলেন, আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কাউকে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। পাশাপাশি অভিবাসন নিয়ে জনপরিসরের আলোচনা যেন তথ্যভিত্তিক হয় এবং অভিবাসনকে নিরাপত্তা সংকট হিসেবে উপস্থাপন না করা হয়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।
ইইউর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন নিয়ম ফেরত প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এর ফলে ইউরোপের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীরা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
অভিবাসন প্রশ্নে ইউরোপে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার সময়েই এই নতুন নিয়ম সামনে এসেছে। অনেক দেশ দ্রুত ফেরত প্রক্রিয়া জোরদার করতে চাইছে। তবে জাতিসংঘের অবস্থান স্পষ্ট—অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের যেকোনো নীতি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
