চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। মাসের প্রথম ছয় দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার।
দেশে বর্তমানে কোন দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসছে, তা জানতে PortuBangla-এর প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে শীর্ষ ১০ দেশ প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী শীর্ষ রেমিট্যান্স পাঠানো দেশগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
একদিনেই এলো ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৬ সেপ্টেম্বর একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
ফলে সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিনে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারে।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি
শুধু সেপ্টেম্বর নয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৪৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৫৪১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে দেশে প্রায় ১০৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
জুলাইয়েও এসেছিল ২৮৫ কোটি ডলারের বেশি
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্সের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ২৮১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। মে মাসে এসেছিল প্রায় ৩৪৪ কোটি ২৬ লাখ এবং এপ্রিলে প্রায় ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার।
কোন দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে?
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দেশভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ওমান, কুয়েত, কাতার ও সিঙ্গাপুর থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
দেশভিত্তিক পূর্ণ তালিকা ও কোন দেশ থেকে কত রেমিট্যান্স এসেছে তা জানতে পড়ুন—প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে শীর্ষ ১০ দেশ, কোন দেশ থেকে আসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স?
ডলারের রেটের সঙ্গে রেমিট্যান্সের সম্পর্ক
প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠানোর সময় মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য পরিবর্তিত হলে একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে দেশে পাওয়া টাকার পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে অর্থ পাঠানোর আগে বর্তমান বিনিময় মূল্য জানতে PortuBangla-এর আজকের USA ডলার রেট দেখে নিতে পারেন।
দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের লাখ লাখ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে এই অর্থ সরাসরি ভূমিকা রাখে।
একই সঙ্গে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স এলে দেশের আনুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ শক্তিশালী হয়।
সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিনের পরিসংখ্যান বলছে, নতুন মাসেও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এখন সেপ্টেম্বরের বাকি দিনগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি কতটা ধরে রাখা যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক
