রোমে জেমসের কনসার্টের পর হোটেলকক্ষ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশ পর্যন্ত গড়াল

james-rome-concert-hotel-room-controversy

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একটি ফারুক মাহফুজ আনাম—ভক্তদের কাছে যিনি শুধুই ‘জেমস’। কয়েক দশক ধরে দেশে-বিদেশে মঞ্চ মাতিয়ে চলা নগরবাউল এবার ইউরোপ সফরে। তবে ইতালির রাজধানী রোমে তার বহুল আলোচিত কনসার্ট শেষ হতে না হতেই গান ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে হোটেলে তার সফরসঙ্গীদের অবস্থান এবং কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার পরের পরিস্থিতি।

গত ১৬ আগস্ট রোমে কনসার্টে অংশ নেন জেমস ও তার দল। সফরকালে তারা স্থানীয় বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টসহ কয়েকটি কক্ষে অবস্থান করেন। কনসার্ট শেষে দলটি হোটেল ছাড়ার পর একটি কক্ষের ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আয়োজকের কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিগুলোতে কক্ষের মেঝেতে ব্যবহৃত পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা, টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিন ও খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের সিঙ্কেও অপরিষ্কার থালা-বাসন এবং কাঁচা ডিম পড়ে থাকার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হোটেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আয়োজক প্রতিনিধির কাছে কক্ষটি অতিরিক্ত পরিষ্কারের জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো দেওয়ার কথা জানিয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে একে ‘জরিমানা’ বলা হলেও হোটেলের বার্তায় এটি মূলত অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার ফি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগেও রোমে জেমসের কনসার্ট ঘিরে প্রবাসীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। ১৬ আগস্টের অনুষ্ঠানটি ছিল তার চলমান ইউরোপ সফরের অংশ; এই সফরে লন্ডন, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, রোম, ভেনিস ও সুইডেনে অনুষ্ঠান করার সূচি রয়েছে।

তবে হোটেলের ওই কক্ষটি জেমস নিজে ব্যবহার করেননি বলে দাবি করেছেন তার ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের সদস্যরা মোট চারটি কক্ষে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, আর যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেখানে ছিলেন দলের অন্য একজন মিউজিশিয়ান।

রবিন ঘটনাটিকে ‘তুচ্ছ ঘটনা’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য, একজন সফরসঙ্গীর ব্যবহৃত কক্ষের অবস্থার দায় সরাসরি জেমসের ওপর চাপানো ঠিক নয়। হোটেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

তবে বিতর্ক শুধু হোটেলের কক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

রোমের কনসার্টের স্থানীয় আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজ জেমসের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কনসার্টের আয়-ব্যয়ের হিসাব, অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। মোয়াজের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতালীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুলিশ হোটেলে এসে তার বক্তব্য শোনে। পুলিশ তাকে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তদন্তের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আপাতত আয়োজকের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজক আরও কিছু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের পক্ষেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি প্রকাশ্যে আসেনি। তাই অভিযোগগুলো প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রোমের কনসার্টের আগে জেমসকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ বিরতির পর ইতালির রাজধানীতে তার উপস্থিতি ঘিরে সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে উৎসব—সব জায়গাতেই ছিল ভক্তদের আগ্রহ।

কিন্তু কনসার্টের কয়েক দিনের মধ্যেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে গান নয়—হোটেলকক্ষের ছড়িয়ে থাকা বোতল, প্লেট, খাবারের উচ্ছিষ্ট, ২০০ ইউরোর অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা বিল এবং আয়োজক-ম্যানেজার বিরোধ।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে হোটেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় আয়োজক এবং জেমসের পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ হয়েছে কি না এবং হলে সেটি কী পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে ইতালীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে বিতর্কটির প্রকৃত অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।