রাতারাতি শুকিয়ে গেল আর্জেন্টিনার বিশাল সমুদ্র

argentina-sea-water-suddenly-recedes

আর্জেন্টিনার আটলান্টিক উপকূলে হঠাৎ সমুদ্রের পানি অনেক দূরে সরে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশে সমুদ্রতল উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় অনেকেই দাবি করছেন, দেশটির বিশাল সমুদ্র যেন ‘রাতারাতি শুকিয়ে গেছে’। তবে বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সমুদ্র শুকিয়ে যায়নি; জোয়ার-ভাটা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে পানি সাময়িকভাবে উপকূল থেকে সরে গেছে।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনার মার দেল প্লাতা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বলে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, স্বাভাবিক পানিসীমা থেকে সমুদ্র অনেক দূরে সরে গেছে। যেখানে সাধারণত ঢেউ আছড়ে পড়ে, সেখানে বিস্তীর্ণ বালুচর ও কর্দমাক্ত সমুদ্রতল দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

অস্বাভাবিক এ দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ঘটনাটিকে ভূমিকম্প বা সম্ভাব্য সুনামির পূর্বলক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। আবার অনেক পোস্টে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়, পানি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সরে গেছে।

কেন হঠাৎ সরে গেল সমুদ্রের পানি?

সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, এমন পরিস্থিতি সাধারণত অস্বাভাবিক নিম্ন জোয়ার এবং উপকূল থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাসের কারণে সৃষ্টি হতে পারে। বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে উপকূলের বিপরীত দিকে প্রবাহিত হলে অগভীর এলাকার পানি গভীর সমুদ্রের দিকে সরে যায়। একে কখনো কখনো ‘নেগেটিভ স্টর্ম সার্জ’ বা ‘রিভার্স স্টর্ম সার্জ’ বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশান সার্ভিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শক্তিশালী অফশোর বাতাস উপকূল থেকে পানি দূরে ঠেলে দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সমুদ্রতল উন্মুক্ত করতে পারে। উচ্চ বায়ুচাপও সাময়িকভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কমিয়ে দিতে পারে। জোয়ারের সময়ের সঙ্গে এসব পরিস্থিতি মিলে গেলে পানির সরে যাওয়ার দৃশ্য আরও নাটকীয় হয়। NOAA

আর্জেন্টিনার নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভিস দেশটির উপকূলীয় বন্দরগুলোর জোয়ারের পূর্বাভাস ও পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। সংস্থাটির তালিকায় মার দেল প্লাতাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার জোয়ার-ভাটার তথ্য প্রকাশ করা হয়। Servicio de Hidrografía Naval

এটি কি সুনামির পূর্বাভাস?

ভূমিকম্পের পর সমুদ্রের পানি দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে সরে যাওয়া সুনামির প্রাকৃতিক সতর্কসংকেত হতে পারে। তবে শুধু পানি সরে যাওয়ার দৃশ্য দেখেই সুনামি আসছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, সরকারি সতর্কতা বা সুনামির অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলে জোয়ার-ভাটা ও বাতাসের প্রভাবকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তারপরও এমন পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত সমুদ্রতলে হাঁটতে যাওয়া বিপজ্জনক। বাতাসের দিক পরিবর্তন বা জোয়ার শুরু হলে পানি দ্রুত ফিরে এসে মানুষকে আটকে ফেলতে পারে। তাই অস্বাভাবিকভাবে পানি সরে গেলে উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।