ফ্রান্সে রেসিডেন্স পারমিট নবায়নে দীর্ঘ অপেক্ষা

france-residence-permit-renewal

ফ্রান্সের বৃহত্তর প্যারিসের উ-দ্য-সেইন (Hauts-de-Seine) ডিপার্টমেন্টে বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নন্তের প্রেফেকচুরের প্রধান আলেক্সন্দ ব্রুজেরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বিদেশিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের সংগঠন এডিডিই।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেসিডেন্স পারমিট ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা প্রবাসীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি পর্তুগালেও বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট ৩০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে AIMA

ফ্রান্সে বিদেশিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির অভিযোগ, উ-দ্য-সেইনের আওতাধীন প্রেফেকচুরগুলোতে বৈধভাবে বসবাসকারী অনেক বিদেশিকে রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের সুযোগ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম L’Humanité-এর প্রতিবেদনে উ-দ্য-সেইনের প্রেফে আলেক্সন্দ ব্রুজেরের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উঠে এসেছে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেয়ে কাজ করতে পারছেন না সেদ্রিক

২ সেপ্টেম্বর ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভির একটি প্রতিবেদনে উ-দ্য-সেইনে বৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট নবায়নে ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে ক্যামেরুনের নাগরিক সেদ্রিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। উ-দ্য-সেইনে বসবাসকারী এই তরুণ জানান, রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ায় তিনি কাজ করতে পারছেন না।

প্রতিবেদনে প্রেফে আলেক্সন্দ ব্রুজেরের বিরুদ্ধে বিদেশিদের অধিকারবিষয়ক আইনজীবীদের সংগঠন এডিডিইর নেওয়া আইনি পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এরপর বিএফএমটিভি প্রেফেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়। তিনি প্রশাসনিক সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে নিজের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।

প্রেফেকচুরের পাল্টা দাবি

বিতর্কের মধ্যেই উ-দ্য-সেইন প্রেফেকচুর তাদের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তিতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

প্রেফেকচুরের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জনবল পাওয়ার পর মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির গড় সময় ৩৫ শতাংশ কমেছে। আগে যেখানে গড়ে ১৪২ দিন সময় লাগত, সেখানে তা কমে ৯২ দিনে এসেছে।

জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে অপেক্ষমাণ রেসিডেন্স পারমিট আবেদনের সংখ্যাও ৩২ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারিতে প্রায় ২৪ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ থাকলেও আগস্টে তা কমে প্রায় ১৬ হাজারে নেমে এসেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপের অন্য দেশগুলোও রেসিডেন্স পারমিটের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ডিজিটাল সেবা ও অতিরিক্ত জনবল ব্যবহার করছে। যেমন পর্তুগালে AIMA-এর অনলাইন রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে

মাসে পারমিট দেওয়ার সংখ্যা দ্বিগুণ

প্রেফেকচুরের দাবি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ইস্যু করা রেসিডেন্স পারমিটের সংখ্যাও বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে মাসিক পারমিট ইস্যুর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজারে পৌঁছেছে।

কাজের অনুমতিপত্র নিষ্পত্তির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করেছে প্রশাসন। জানুয়ারি থেকে এই সময় প্রায় ৮০ শতাংশ কমে ৭৫ দিন থেকে ১৪ দশমিক ৭ দিনে নেমে এসেছে।

তবে প্রেফেকচুর স্বীকার করেছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আবেদনকারীদের সব সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। তারপরও সামগ্রিক ফলাফলকে তারা উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখছে।

অনিয়মিত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান

অন্যদিকে, প্রেফে আলেক্সন্দ ব্রুজেরে জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ৫১ শতাংশ বেড়েছে।

এ ছাড়া জনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিটের মর্যাদা কমানোর ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে এবং অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের নিয়মিত করার সংখ্যা ৪৭ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে প্রেফেকচুর।

ফ্রান্সের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ও রেসিডেন্স পারমিটের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। এ বিষয়ে PortuBangla-তে ইউরোপের অভিবাসন আইন ও সিঙ্গেল পারমিট ডিরেকটিভ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পড়তে পারেন।

একদিকে উ-দ্য-সেইন প্রশাসন আবেদন নিষ্পত্তির সময় ও অপেক্ষমাণ ফাইলের সংখ্যা কমানোর দাবি করছে, অন্যদিকে বিদেশিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির অভিযোগ—বৈধভাবে বসবাসরত অনেক বিদেশি এখনো সময়মতো রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের সুযোগ না পেয়ে চাকরি ও দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার মুখে পড়ছেন।